নকল ড্রোনে রুশ প্রতিরক্ষাকে ধোঁকা দিচ্ছে ইউক্রেন
রাশিয়ার অভ্যন্তরে দীর্ঘপাল্লার ড্রোন হামলার ক্ষেত্রে ইউক্রেন নতুন ও আরও পরিশীলিত কৌশল গ্রহণ করেছে
রাশিয়ার অভ্যন্তরে দীর্ঘপাল্লার ড্রোন হামলার ক্ষেত্রে ইউক্রেন নতুন ও আরও পরিশীলিত কৌশল গ্রহণ করেছে বলে দাবি করেছে রাশিয়ান সামরিক বিশ্লেষক মহল। রাশিয়াভিত্তিক টেলিগ্রাম চ্যানেল ‘রাইবার’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেন এখন শুধু আক্রমণাত্মক ড্রোনের ওপর নির্ভর করছে না; বরং রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে বিপুল সংখ্যক নকল বা অস্ত্রবিহীন ড্রোনও ব্যবহার করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার ধরনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। আগে ড্রোনগুলো মূলত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে হামলা চালাত। কিন্তু প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে এখন সেগুলোর পাল্লা অনেক বেড়েছে এবং রাশিয়ার গভীর অভ্যন্তর, এমনকি সাইবেরিয়া পর্যন্ত পৌঁছানোর সক্ষমতা অর্জন করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শত শত আত্মঘাতী বা অস্ত্রসজ্জিত ড্রোন ব্যবহার করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তাই ইউক্রেন তুলনামূলক কম খরচে রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখতে ও বিভ্রান্ত করতে ডিকয় বা নকল ড্রোন ব্যবহার করছে। এসব ড্রোন দেখতে প্রায় যুদ্ধাস্ত্রবাহী ড্রোনের মতো হওয়ায় রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ে।
রাইবারের দাবি, ২০২৬ সালের মে মাসে রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলোর প্রায় ৬০ শতাংশই কোনো বিস্ফোরক বা যুদ্ধাস্ত্র বহন করছিল না। ফলে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূল্যবান ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এসব ড্রোন ধ্বংস করতে বাধ্য হয়েছে।
এছাড়া ইউক্রেন তাদের হামলার রুট নির্বাচনেও পরিবর্তন এনেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। দাবি করা হয়েছে, পশ্চিমা স্যাটেলাইট এবং ন্যাটোর গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে রাশিয়ার রাডার ও বিমান প্রতিরক্ষা অবস্থান সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এরপর সেই তথ্যের ভিত্তিতে এমন রুট নির্বাচন করা হচ্ছে, যেখানে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তুলনামূলক দুর্বল।
রাইবারের তথ্যমতে, মে মাসে লেনিনগ্রাদ অঞ্চলে হামলার সময় ইউক্রেন একাধিক বিকল্প উড্ডয়ন পথ ব্যবহার করেছিল। কিছু ড্রোন বেলারুশ ও বাল্টিক অঞ্চলের সীমান্তঘেঁষা আকাশপথ ব্যবহার করে, আবার কিছু ড্রোন রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা বলয়ের দুর্বল অংশ দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করে।
তবে বাল্টিক রাষ্ট্রগুলোর ভূখণ্ড থেকে সরাসরি ড্রোন উৎক্ষেপণের যে আলোচনা চলছে, তার পক্ষে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিকয় ড্রোন, দীর্ঘপাল্লার প্রযুক্তি এবং উন্নত গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে ইউক্রেনের ড্রোন অভিযান নতুন মাত্রা পেয়েছে। এর ফলে রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষার কৌশল পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তাও সামনে আসছে।
