বোর্ডিং গেটেই ধরা পড়ল ভুয়া ভিসা, উধাও ৬১ যাত্রী

শনিবার রাতে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মালয়েশিয়াগামী যাত্রীদের কাগজপত্র যাচাইয়ে জাল ভিসা ধরা পড়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়

শনিবার রাতে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মালয়েশিয়াগামী যাত্রীদের কাগজপত্র যাচাইয়ে জাল ভিসা ধরা পড়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার জেরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের ৬১ জন যাত্রী বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করার পরও বিমানে আরোহন না করেই বিমানবন্দর ত্যাগ করেন বলে জানা গেছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৮৬ ফ্লাইটটি রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে। ফ্লাইটটিতে মোট ২৬৩ জন যাত্রীর ভ্রমণের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ২১২ জন যাত্রী নিয়ে উড্ডয়ন করে বিমানটি।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম জানান, যাত্রীদের ভ্রমণ নথি যাচাইয়ের সময় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ প্রথমে ১০ জন যাত্রীকে বিদেশ যাত্রার অনুমতি দেয়নি। পরে বোর্ডিং গেটে আরও পাঁচজনের ভিসা জাল বা অসংগতিপূর্ণ বলে ধরা পড়ে। তাদের ভিসা ও পাসপোর্টের তথ্যের মধ্যে মিল না থাকায় বিমানে ওঠার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ভিসা জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর অন্য যাত্রীদের কাগজপত্রও আরও কঠোরভাবে পরীক্ষা শুরু হয়। এতে অনেক যাত্রী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করা ৬১ জন যাত্রী এরপর আর বোর্ডিং গেটে যাননি। ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত যাচাইয়ের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কায় তারা বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।

ফলে ওই ফ্লাইটে ভ্রমণের জন্য নির্ধারিত মোট ৭৬ জন যাত্রী শেষ পর্যন্ত মালয়েশিয়া যেতে পারেননি। তবে বোর্ডিং পাস নিয়ে বিমানবন্দর ত্যাগকারী যাত্রীদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান বা পরবর্তী গন্তব্য সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিমানবন্দর সূত্রের দাবি, যাত্রীরা সবাই মালয়েশিয়ার ট্যুরিস্ট ভিসাধারী ছিলেন। তাদের একটি অংশ কোনো একটি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় গিয়ে সেখানে অবস্থান ও কাজের পরিকল্পনা করেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সংস্থা নিশ্চিত বক্তব্য দেয়নি।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, জাল ভিসা ও মানবপাচার রোধে সাম্প্রতিক সময়ে বিমানবন্দরে যাত্রীদের নথিপত্র যাচাই আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে পর্যটক ভিসায় বিদেশগামীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে ভ্রমণকারীদের বৈধ কাগজপত্র সংগ্রহ এবং অনুমোদিত সংস্থার মাধ্যমে বিদেশ যাত্রার পরামর্শ দিয়েছেন কর্মকর্তারা।

 

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.