সক্ষমতার চেয়ে ৫৯% বেশি যাত্রী সামলাচ্ছে শাহজালাল বিমানবন্দর
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বর্তমানে ধারণক্ষমতার অনেক বেশি যাত্রীকে সেবা দিচ্ছে।
বার্ষিক ৮০ লাখ যাত্রী ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা নিয়ে পরিচালিত হলেও দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বর্তমানে ধারণক্ষমতার অনেক বেশি যাত্রীকে সেবা দিচ্ছে। বিমানবন্দর সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এ বিমানবন্দর দিয়ে প্রায় ১ কোটি ২৭ লাখ ২০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেছেন, যা নির্ধারিত সক্ষমতার তুলনায় প্রায় ৫৯ শতাংশ বেশি।
শাহজালাল বিমানবন্দরের বিদ্যমান অবকাঠামো দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় ধরনের যাত্রীর চাপ বহন করে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ করে আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিমানবন্দরটির ওপর চাপ আরও বেড়েছে। ২০২৪ সালে যেখানে প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ যাত্রী চলাচল করেছিলেন, সেখানে এক বছরের ব্যবধানে সেই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়ে ১ কোটি ২৭ লাখ ২০ হাজারে পৌঁছেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামলাতে প্রতিদিনই ইমিগ্রেশন, নিরাপত্তা তল্লাশি, ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনা, বোর্ডিং ও যাত্রীসেবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাড়তি উদ্যোগ নিতে হচ্ছে। হজ, ওমরা, ঈদ ও অন্যান্য উৎসবের মৌসুমে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তবুও বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় ফ্লাইট পরিচালনা ও যাত্রীসেবা সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে।
বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সীমিত অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে এত বিপুলসংখ্যক যাত্রীকে সেবা দেওয়া বিমানবন্দরের কর্মীদের দক্ষতা ও সক্ষমতারই প্রমাণ। একই সঙ্গে এটি দেশের বিমান পরিবহন খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদারও প্রতিফলন।
এদিকে বহু প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হলে শাহজালাল বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা ৮০ লাখ থেকে বেড়ে ২ কোটি ৪০ লাখে উন্নীত হবে। এর ফলে বিদ্যমান টার্মিনালগুলোর ওপর চাপ কমবে, যাত্রীসেবার মান উন্নত হবে এবং আধুনিক সুবিধা সম্প্রসারিত হবে। সংশ্লিষ্টদের আশা, নতুন টার্মিনাল চালু হলে বাংলাদেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি আরও দক্ষ, আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব সেবার নতুন যুগে প্রবেশ করবে।
