শাহজালাল বিমানবন্দরে ১১.৮ কেজি গাঁজাসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেফতার

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থাইল্যান্ড থেকে আনা প্রায় ১১ কেজি ৮০০ গ্রাম উন্নত জাতের গাঁজাসহ এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থাইল্যান্ড থেকে আনা প্রায় ১১ কেজি ৮০০ গ্রাম উন্নত জাতের গাঁজাসহ এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। উদ্ধার হওয়া মাদকের বাজারমূল্য এবং এর সম্ভাব্য গন্তব্য নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ডিএনসি সূত্র জানায়, শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে বিমানবন্দরের আগমনী হলের গ্রীন চ্যানেলে কাস্টমস তল্লাশির সময় মো. জুলফিকার মোল্লা (৩৩) নামে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার রাজারহাট থানার বাসিন্দা। তিনি ব্যাংকক থেকে থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩২১ ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছান।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, পূর্ব থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সার্কেলের পরিদর্শক শাহরিয়া শারমিনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম বিমানবন্দরের গ্রীন চ্যানেলে নজরদারিতে ছিল। সন্দেহজনক আচরণের কারণে জুলফিকার মোল্লাকে থামিয়ে তার লাগেজ তল্লাশি করা হয়।

তল্লাশির সময় উপস্থিত সাক্ষী এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সামনে তার ট্রাভেল ট্রলি ব্যাগ খুলে দেখা যায়, কাপড়ের নিচে অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছে ২১টি পলিথিন প্যাকেট। প্রতিটি প্যাকেটে উন্নত জাতের গাঁজা ছিল। সবগুলো প্যাকেট থেকে মোট ১১ কেজি ৮০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে জব্দ করা মাদক আইনগত প্রক্রিয়ায় জব্দ তালিকাভুক্ত করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তি জানান, তিনি বাংলাদেশে দুই থেকে তিন দিন অবস্থান করার পর ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে এই মাদক বাংলাদেশে সরবরাহের উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল, নাকি অন্য কোনো দেশে পাচারের পরিকল্পনা ছিল—সেই বিষয়টি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় কোনো আন্তর্জাতিক মাদক চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডিএনসি।

কর্তৃপক্ষের ধারণা, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক রুট ব্যবহার করে মাদক পাচারের প্রবণতা বেড়েছে। তাই বিমানবন্দরে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। যাত্রীদের লাগেজ স্ক্যানিং, ঝুঁকিভিত্তিক প্রোফাইলিং এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত তৎপরতার মাধ্যমে এ ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে কাজ চলছে।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় বিমানবন্দর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী হয়েছেন ডিএনসির ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সার্কেলের পরিদর্শক শাহরিয়া শারমিন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতে সোপর্দ করার পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া মাদকের উৎস, সম্ভাব্য গ্রহণকারী এবং পুরো পাচার নেটওয়ার্ক শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.

EN