মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে অনিশ্চয়তা, একাধিক এয়ারলাইনের ফ্লাইট বাতিল

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রভাব আবারও মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে পড়তে শুরু করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রভাব আবারও মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে পড়তে শুরু করেছে। গত ১১ দিন ধরে উভয় দেশ পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান ও ওমানের আকাশসীমা নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে কয়েকটি স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির খবরও এসেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতেও জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা পুরো অঞ্চলের বিমান চলাচলকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

যদিও অধিকাংশ উপসাগরীয় দেশের বিমানবন্দর চালু রয়েছে, তবুও বিভিন্ন এয়ারলাইন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ফ্লাইট কমিয়েছে বা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি (EASA) ২৯ জুলাই পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন ও ওমানের আকাশসীমা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। ফলে অনেক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন বিকল্প রুট ব্যবহার করছে, যার কারণে কিছু ফ্লাইটের যাত্রাসময় বেড়েছে।

এমিরেটস, ইতিহাদ, কাতার এয়ারওয়েজ, ফ্লাইদুবাই, গালফ এয়ার, এয়ার অ্যারাবিয়া ও ওমান এয়ার সীমিত সূচিতে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। যাত্রীদের বিমানবন্দরে অন্তত তিন ঘণ্টা আগে পৌঁছানো এবং যাত্রার আগে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, লুফথানসা, এয়ার ফ্রান্স, কেএলএম, ক্যাথে প্যাসিফিক, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স, এয়ার কানাডা, ফিনএয়ার ও ভার্জিন আটলান্টিকসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত বা সীমিত করেছে।

বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সৌদি আরব, বাহরাইন ও ইরাকের আকাশসীমা উন্মুক্ত থাকলেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কুয়েতের আকাশসীমায় মাঝে মধ্যেই সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে, যা ফ্লাইট সূচিতে প্রভাব ফেলছে।

বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে বাতিল ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়তে পারে এবং ইউরোপ, এশিয়া ও উত্তর আমেরিকার সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সংযোগে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। তাই যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপ থেকে সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া অনেক এয়ারলাইন বিনামূল্যে তারিখ পরিবর্তন, পুনঃবুকিং ও রিফান্ড সুবিধাও চালু রেখেছে, যাতে অনিশ্চয়তার মধ্যেও যাত্রীরা বিকল্প পরিকল্পনা করতে পারেন।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.