ভারতে বাড়ছে পাইলটের চাহিদা, ১১ নতুন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দক্ষ পাইলটের চাহিদা।

ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দক্ষ পাইলটের চাহিদা। নতুন নতুন বিমান সংযোজন, রুট সম্প্রসারণ এবং বিমানবন্দরের সংখ্যা বৃদ্ধির পরিকল্পনার কারণে আগামী এক দশকে দেশটিতে ৩০ হাজারেরও বেশি নতুন পাইলটের প্রয়োজন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। এই চাহিদা পূরণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১১টি নতুন ফ্লাইট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (এফটিআই) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে ভারতীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

ভারতের সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স (সিপিএল) অর্জনকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০১৮ সালে যেখানে ৬৪০ জন সিপিএল অর্জন করেছিলেন, ২০২৪ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬২৮ জনে। এই পরিসংখ্যানই স্পষ্ট করে যে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটছে এবং একই সঙ্গে বাড়ছে দক্ষ পাইলটের প্রয়োজন।

তবে চাহিদার তুলনায় দেশে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ সুবিধা না থাকায় এখনও অনেক ভারতীয়কে বিদেশে গিয়ে পাইলট প্রশিক্ষণ নিতে হচ্ছে। এতে প্রশিক্ষণের ব্যয় যেমন বাড়ছে, তেমনি সময়ও বেশি লাগছে। একই কারণে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোর পাইলট সংকট মোকাবিলায় ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ)কে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি পাইলটকে ভারতে উড়োজাহাজ পরিচালনার অনুমতি দিতে হচ্ছে।

বর্তমানে ভারতে মোট ৪১টি ফ্লাইট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট রয়েছে। এই সংখ্যা বাড়াতে দেশের সাতটি বিমানবন্দরে নতুন করে ১১টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এর মাধ্যমে দেশেই আরও বেশি সংখ্যক দক্ষ পাইলট তৈরি করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একসময় পশ্চিমবঙ্গের বেহালায় পাইলট প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে সেই কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের বিমান পরিবহন শিল্প আগামী কয়েক বছরে আরও বড় পরিসরে বিস্তৃত হবে। বিভিন্ন ভারতীয় এয়ারলাইন্স আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রায় ৫০০টি নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও প্রায় ৫০টি নতুন বিমানবন্দর চালুর সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে শুধু পাইলট নয়, প্রকৌশলী, কেবিন ক্রু, এয়ার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং গ্রাউন্ড অপারেশনসহ পুরো বিমান চলাচল খাতেই দক্ষ জনবলের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

এই বাস্তবতায় দেশীয় প্রশিক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে ভারত সরকার। নতুন ফ্লাইট ট্রেনিং ইনস্টিটিউটগুলো চালু হলে বিদেশে প্রশিক্ষণের ওপর নির্ভরতা কমবে, প্রশিক্ষণ ব্যয়ও হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে দেশীয় বিমান শিল্পের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে প্রয়োজনীয় দক্ষ পাইলট তৈরি করা সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.