১.০৪ বিলিয়ন ডলারে মধ্যপ্রাচ্যে যাচ্ছে দুটি গ্লোবালআই বিমান

মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে দুটি গ্লোবালআই (GlobalEye) এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল (AEW&C) বিমান সরবরাহ করবে সুইডেনের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সাব (Saab)।

মধ্যপ্রাচ্যের একটি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দেশের সঙ্গে ১.০৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তিতে দুটি গ্লোবালআই (GlobalEye) এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল (AEW&C) বিমান সরবরাহ করবে সুইডেনের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সাব (Saab)। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বিমান দুটি সরবরাহ সম্পন্ন হবে।

এই চুক্তির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশের আকাশ নজরদারি, কমান্ড ও কন্ট্রোল এবং সামরিক অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে কোন দেশ এই বিমান কিনছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।

গ্লোবালআই শুধু একটি নজরদারি বিমান নয়; এটি আকাশ, স্থল ও সমুদ্র—তিন ক্ষেত্রেই তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক কমান্ড সেন্টারে পাঠানোর সক্ষমতাসম্পন্ন একটি অত্যাধুনিক প্ল্যাটফর্ম। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও কার্যকর হয়।

বিমানটি বোম্বার্ডিয়ার গ্লোবাল ৬০০০ বিজনেস জেটের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এতে রয়েছে সাবের অত্যাধুনিক এরিআই (Erieye) AESA রাডার, যা একই সঙ্গে আকাশ, স্থল ও সমুদ্রের লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে পারে। পাশাপাশি এতে ইলেকট্রো-অপটিক্যাল সেন্সর, সামুদ্রিক নজরদারি ব্যবস্থা এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের উন্নত প্রযুক্তি সংযুক্ত রয়েছে।

প্রযুক্তিগতভাবে গ্লোবালআই প্রায় ৩৫ হাজার ফুট উচ্চতায় টানা ১১ থেকে ১২ ঘণ্টা টহল দিতে সক্ষম। এটি ৪৫০ কিলোমিটারেরও বেশি দূর থেকে নিম্ন উচ্চতায় উড়তে থাকা লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে পারে। বিশেষ অপারেশনাল মোডে এর রাডারের কার্যকর পরিসর ৬৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো বহুমাত্রিক হুমকি মোকাবিলায় গ্লোবালআই অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। দূর থেকে লক্ষ্য শনাক্ত করে আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার মাধ্যমে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও যুদ্ধবিমান দ্রুত মোতায়েন করা সম্ভব হয়।

সাব জানিয়েছে, ক্রেতা দেশের পরিচয় গোপন রাখার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ নিরাপত্তাজনিত। কারণ এ ধরনের কৌশলগত নজরদারি প্ল্যাটফর্মের মোতায়েন ও ব্যবহার সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ পেলে সংশ্লিষ্ট দেশের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা ও সক্ষমতা সম্পর্কে প্রতিপক্ষ ধারণা পেতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা উত্তেজনার পর মধ্যপ্রাচ্যে উন্নত আকাশভিত্তিক আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। সেই প্রেক্ষাপটে সাবের এই বিলিয়ন ডলারের গ্লোবালআই চুক্তিকে অঞ্চলটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.