মধ্যপ্রাচ্য সংকটে লোকসানে উইজ এয়ার, বদলাচ্ছে রুট কৌশল
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, জেট জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং যাত্রীদের ভ্রমণ প্রবণতায় পরিবর্তনের কারণে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়েছে ইউরোপের স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা উইজ এয়ার।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, জেট জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং যাত্রীদের ভ্রমণ প্রবণতায় পরিবর্তনের কারণে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়েছে ইউরোপের স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা উইজ এয়ার। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এপ্রিল থেকে জুন ২০২৬ সময়কালে তারা ১৮ কোটি ৩০ লাখ ইউরো অপারেটিং লোকসান করেছে। গত বছরের একই সময়ে সংস্থাটি ২ কোটি ৭৫ লাখ ইউরো মুনাফা করেছিল।
বিমান সংস্থার প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই লোকসানের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল জেট জ্বালানির মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়ে এবং এপ্রিলের শেষ দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ মার্কিন ডলারেরও বেশি পৌঁছে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বিমান জ্বালানির বাজারে।
উইজ এয়ারের জ্বালানি ব্যয় গত বছরের তুলনায় ৩৯ শতাংশ বেড়ে ৬১ কোটি ৫ লাখ ইউরোতে পৌঁছেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বাজারে জ্বালানির মূল্য প্রায় ৮৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেলেও অভ্যন্তরীণ ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচালনাগত বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা এর একটি অংশ সামাল দিতে সক্ষম হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে চলতি বছরের শুরুতে উইজ এয়ারকে ইসরায়েলের তেল আবিবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গন্তব্য এবং সাইপ্রাসের কিছু ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছিল। এর ফলে সংস্থাটির প্রায় ৫ কোটি ইউরো আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে আগেই জানানো হয়েছিল।
যদিও বর্তমানে এসব অঞ্চলের অনেক ফ্লাইট আবার চালু হয়েছে, তবুও উইজ এয়ার তাদের নেটওয়ার্ক পরিচালনায় নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। দীর্ঘপাল্লার মধ্যপ্রাচ্যগামী রুটে ফ্লাইট কমিয়ে তুলনামূলক স্বল্প দূরত্বের ইউরোপীয় রুটে বেশি উড়োজাহাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। সংস্থার মতে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এই কৌশল পরিচালনাগত ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে।
আর্থিক চাপের মধ্যেও যাত্রী পরিবহনে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে উইজ এয়ার। এপ্রিল থেকে জুন সময়কালে বিমান সংস্থাটি ২ কোটি ১২ লাখ যাত্রী পরিবহন করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। একই সময়ে সংস্থাটির মোট রাজস্ব ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১৫০ কোটি ইউরোতে পৌঁছেছে।
উইজ এয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়োজেফ ভারাদি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, জ্বালানির উচ্চ মূল্য এবং যাত্রীদের বুকিং প্রবণতায় পরিবর্তনের কারণে পুরো বিমান শিল্পই অত্যন্ত অস্থির সময় পার করছে। তিনি জানান, সংস্থাটি এখন মূল নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করা, ইউরোপীয় রুটে ফ্লাইট বাড়ানো এবং পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।