জার্মানির লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরে ফ্লাইট বিঘ্ন

লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরে সন্দেহজনক একটি উড়ন্ত বস্তু এবং রানওয়ের কাছে আরেকটি অজ্ঞাত বস্তু দেখতে পাওয়ার ঘটনায় সাময়িকভাবে ফ্লাইট পরিচালনায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

জার্মানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কার্গো বিমানবন্দর লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরে সন্দেহজনক একটি উড়ন্ত বস্তু এবং রানওয়ের কাছে আরেকটি অজ্ঞাত বস্তু দেখতে পাওয়ার ঘটনায় সাময়িকভাবে ফ্লাইট পরিচালনায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে একাধিক ফ্লাইটের রুট পরিবর্তন করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা অভিযান চালায় পুলিশ।

বুধবার (৫ আগস্ট) জার্মান পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার গভীর রাতে বিমানবন্দরের আকাশসীমার কাছে একটি সন্দেহজনক উড়ন্ত বস্তু দেখা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। রাত প্রায় ১২টার কিছু আগে এ তথ্য পাওয়ার পরপরই বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং পরিস্থিতি মূল্যায়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে।

নিরাপত্তাজনিত কারণে ওই সময় বিমানবন্দরে অবতরণ বা উড্ডয়নের অপেক্ষায় থাকা কয়েকটি ফ্লাইটকে বিকল্প বিমানবন্দরে পাঠানো হয়। এসব ফ্লাইটের মধ্যে অন্তত একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজও ছিল। তবে কতটি ফ্লাইট প্রভাবিত হয়েছে বা যাত্রীদের কতটা ভোগান্তি হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।

পুলিশ আরও জানায়, বিমানবন্দরের দক্ষিণ রানওয়ের কাছে একটি অজ্ঞাত বস্তু শনাক্ত করা হয়। সেটি নিরাপদ কি না তা নিশ্চিত করতে ঘটনাস্থলে বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট মোতায়েন করা হয়। বিশেষায়িত অ্যান্টি-এক্সপ্লোসিভ রোবট ব্যবহার করে বস্তুটি পরীক্ষা করা হয়, যাতে কোনো ধরনের ঝুঁকি ছাড়াই পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়।

তবে সন্দেহজনক উড়ন্ত বস্তুটির প্রকৃতি কী ছিল বা রানওয়ের পাশে পাওয়া বস্তুটি আসলে কী—এ বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না বলেও জানানো হয়েছে।

লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দর ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কার্গো পরিবহন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। আন্তর্জাতিক মালবাহী উড়োজাহাজের পাশাপাশি যাত্রীবাহী ফ্লাইটও নিয়মিত পরিচালিত হয়। ফলে নিরাপত্তা সংক্রান্ত যেকোনো ঘটনার প্রভাব দ্রুত বিমান চলাচলের ওপর পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ড্রোন বা অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু শনাক্ত হওয়ার ঘটনা বেড়েছে। এ ধরনের ঘটনার কারণে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনেক সময় সাময়িকভাবে রানওয়ে বন্ধ রাখতে বা ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরে সরিয়ে নিতে হয়।

ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে কাজ করছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার রাখা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বিমান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.

EN