বিমানের কাছে সরকারের দুটি প্রতিষ্ঠানের বকেয়া হাজার কোটি টাকা
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কাছে সরকারের দুটি প্রতিষ্ঠানের বকেয়া পাওনা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকার বেশি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কাছে সরকারের দুটি প্রতিষ্ঠানের বকেয়া পাওনা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) পাওনা ৫ হাজার ৮৪২ কোটি ৯১ লাখ টাকা এবং পদ্মা অয়েল পিএলসির পাওনা ১ হাজার ২৩২ কোটি ৭১ লাখ টাকা। বিপুল এই বকেয়ার বিপরীতে বিমান কর্তৃপক্ষের দাবি, গত পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে লাভ করছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই বিমান সংস্থা।
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট পর্যন্ত বিমানের বিভিন্ন উড়োজাহাজ চলাচল-সংক্রান্ত ও অন্যান্য চার্জ এবং সারচার্জ মিলিয়ে তাদের মোট পাওনা ৫ হাজার ৮৪২ কোটি ৯১ লাখ ২৩ হাজার ৮৭৪ টাকা। এ বিষয়ে বিমান কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত পুরো অর্থ পরিশোধ করা হয়নি।
অন্যদিকে পদ্মা অয়েলের কাছে বিমানের বকেয়া ১ হাজার ২৩২ কোটি ৭১ লাখ ১৬ হাজার ৩৮২ টাকা। গত বছরের ২১ জানুয়ারি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল, বিমান প্রতি মাসে পদ্মা অয়েলকে অন্তত ২৫ কোটি টাকা করে পরিশোধ করবে। পদ্মা অয়েলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিমান নিয়মিত সেই অর্থ পরিশোধ করছে।
সূত্র জানায়, ২০১১ থেকে ২০১৯ সালের অক্টোবর পর্যন্ত পদ্মা অয়েলের কাছে বিমানের মোট বকেয়া ছিল ২ হাজার ১০৮ কোটি ১৯ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার পর বিমান ৮৭৫ কোটি ৪৮ লাখ ৮০ হাজার ৮৯২ টাকা পরিশোধ করেছে। এরপরও এক হাজার ২৩২ কোটি টাকার বেশি পাওনা রয়ে গেছে।
এদিকে বিমান কর্তৃপক্ষ বলছে, আর্থিকভাবে সংস্থাটি এখন ভালো অবস্থানে রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যাত্রী পরিবহন করে বিমান ৭৮৫ কোটি টাকা লাভ করেছে। টানা পাঁচ বছর লাভের ধারায় থাকার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
লাভের দাবি থাকলেও একই সময়ে বিমানের বহর বড় করার পরিকল্পনাও এগিয়ে চলছে। বর্তমানে বিমানের বহরে রয়েছে ১৯টি উড়োজাহাজ। এর সঙ্গে আরও ১১টি বোয়িং ও ১০টি এয়ারবাসসহ মোট ২১টি উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে বিমানের বহরে মোট উড়োজাহাজের সংখ্যা ৩৫টিতে দাঁড়াতে পারে।
এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়ায় কারিগরি-আর্থিক কমিটি কাজ শেষ করে পরিচালনা পর্ষদের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। পর্ষদের একটি উপকমিটিও তাদের কাজ শেষ করেছে। এখন চূড়ান্ত পর্যালোচনার পর চুক্তির দিকে এগোচ্ছে বিমান।
এ ছাড়া গত এপ্রিলে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজের জন্য ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি হয়েছে। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিমানের বহর আরও আধুনিক ও বড় হবে। তবে বিপুল বকেয়া, নতুন উড়োজাহাজ কেনার অর্থায়ন এবং পরিচালন ব্যয়—সব মিলিয়ে সংস্থাটির আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে।