আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রস্তুত কক্সবাজার বিমানবন্দর

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে কক্সবাজার বিমানবন্দর।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে কক্সবাজার বিমানবন্দর। নতুন আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনাল নির্মাণ এবং রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ শেষ হওয়ায় আগামী অক্টোবর থেকে এই বিমানবন্দর দিয়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে নতুন টার্মিনালের পরিচালনাগত সক্ষমতা যাচাই করা হবে।

প্রায় ৩৬২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনাল ভবনের আয়তন প্রায় ১৭ হাজার ৯৫৫ বর্গমিটার। আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য এতে রয়েছে ৪৫০ আসনের প্রস্থান লাউঞ্জ, আগমন লাউঞ্জ, ইমিগ্রেশন কাউন্টার, শুল্কমুক্ত দোকান, কনভেয়ার বেল্টসহ বিভিন্ন আধুনিক সুবিধা। এ ছাড়া পর্যাপ্ত চেক-ইন কাউন্টার ও যাত্রীদের বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে টার্মিনালের পরিচালনায় কোনো ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতা থাকলে তা চিহ্নিত করে সমাধানের সুযোগ পাওয়া যাবে।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার উপযোগী করতে বিমানবন্দরের রানওয়েতেও বড় ধরনের উন্নয়ন করা হয়েছে। সমুদ্রের দিকে রানওয়ে ১ হাজার ৭০০ ফুট সম্প্রসারণের ফলে এর মোট দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৭০০ ফুট। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রানওয়ের অ্যাসফল্ট ওভারলে, লাইটিংসহ প্রয়োজনীয় কাজ শেষ হয়েছে। ফলে বড় আকারের উড়োজাহাজ ওঠানামার জন্যও বিমানবন্দরটি আরও সক্ষম হয়েছে।

রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের সমন্বয়ক এম মোশাররফ হোসেন জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী অক্টোবর থেকেই কক্সবাজার বিমানবন্দর দিয়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হতে পারে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য বিমানবন্দর এখন প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষও অক্টোবর থেকে আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। এর আগে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক জানিয়েছিলেন, অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম নতুন টার্মিনালে স্থানান্তরের পর ধাপে ধাপে আন্তর্জাতিক কার্যক্রম চালু করা হবে।

এরই মধ্যে নতুন টার্মিনাল থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হয়েছে। এতে বিমানবন্দরটির আধুনিক যাত্রীসেবা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক কার্যক্রম চালুর আগে প্রয়োজনীয় বাস্তব অভিজ্ঞতাও অর্জিত হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্টরা আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনাকে কক্সবাজারের জন্য বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন। কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে বিদেশি পর্যটকদের কক্সবাজারে আসার সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি হোটেল, পর্যটন, পরিবহন ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে কয়েক বছর ধরে অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। ১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২১ সালের ২৯ আগস্ট শুরু হওয়া প্রকল্পের আওতায় নতুন টার্মিনাল, রানওয়ে সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এখন সম্ভাব্য অক্টোবরের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট শুরুর অপেক্ষায় কক্সবাজার বিমানবন্দর।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.