নতুন রাডারে বদলে গেল বাংলাদেশের আকাশসীমা
ঢাকায় নতুন রাডার ও অত্যাধুনিক এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থা চালুর পর বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।
ঢাকায় নতুন রাডার ও অত্যাধুনিক এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থা চালুর পর বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের আকাশসীমায় চলাচলকারী বিদেশি উড়োজাহাজগুলোকে আরও কার্যকরভাবে শনাক্ত ও নজরদারি করা সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে ওভারফ্লাই ফি আদায়ের ক্ষেত্রেও এসেছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত অত্যাধুনিক এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার এবং পূর্ণাঙ্গ রাডার ব্যবস্থা চালুর পর গত ছয় মাসে ফ্লাইওভার বা ওভারফ্লাই চার্জ বাবদ সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় ৪১৬ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, নতুন প্রযুক্তি পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার পর প্রতি মাসে গড়ে ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকা পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হচ্ছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শুধু ওভারফ্লাই ফি থেকেই সরকারের আয় হয়েছে ৮০৫ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস, অর্থাৎ জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আয় ছিল ৩৩৮ কোটি টাকার বেশি। পরবর্তী ছয় মাসে আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪১৬ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় নানা দুর্বলতা ছিল। পুরোনো ও সীমিত সক্ষমতার রাডার ব্যবস্থায় বিদেশি উড়োজাহাজের চলাচল যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ করা কঠিন ছিল। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন আকাশসীমার কিছু অংশে কার্যকর নজরদারি সীমিত থাকায় সব উড়োজাহাজের চলাচল ও ফি আদায় সঠিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হতো না।
আধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট এবং কমিউনিকেশন, নেভিগেশন অ্যান্ড সার্ভেইল্যান্স ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে সেই সীমাবদ্ধতা অনেকটাই দূর হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে নতুন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার ও রাডার ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
প্রায় ৯৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে ফ্রান্সের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থেলসের সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে আধুনিক রাডার, যোগাযোগ ও নজরদারি প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পটির ফলে বাংলাদেশের আকাশসীমায় উড়োজাহাজ শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ রুটে রয়েছে বাংলাদেশ। ফলে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আকাশসীমা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা গেলে নিরাপত্তার পাশাপাশি রাজস্ব আয়ও বাড়বে। নতুন রাডার ব্যবস্থা সেই সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।