বিমানবন্দর মামলায় জামিন পেলেন না আখতারুজ্জামান
মদিনা থেকে আসা ফ্লাইটের লাগেজ পেতে বিলম্ব ঘিরে বিশৃঙ্খলা ও বিমানবন্দরের কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার মামলায় জামিন আবেদন নাকচ করেছেন আদালত।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার মামলায় গ্রেপ্তার মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) আসামিপক্ষের জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-৫-এর বিচারক সাদেকীন হাবীব বাপ্পী এ আদেশ দেন।
আদালতে আখতারুজ্জামানের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন অ্যাডভোকেট শিশির মনির, আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েকজন আইনজীবী। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত তাঁর জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর সৌদি আরবের মদিনা থেকে ঢাকায় আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটের যাত্রীদের লাগেজ পেতে বিলম্ব হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন কয়েকজন যাত্রী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে যান।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ওই সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। একপর্যায়ে তাঁকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার পাশাপাশি মারধরের হুমকিও দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিমানমন্ত্রীকে নিয়েও অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
ঘটনার পর বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্বরত কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
এর আগে গত ২ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন শনিবার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
সোমবারের শুনানিতে আসামিপক্ষ জামিনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরলেও রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। শুনানি শেষে আদালত জামিন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান। ফলে এ মামলায় আপাতত কারামুক্তি পাচ্ছেন না সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও পরিচিত মুখ মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। এর আগে ২০২২ সালে পঞ্চমবারের মতো তাঁকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
বিমানবন্দরের ওই ঘটনার পর দায়ের করা মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এসব অভিযোগকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।