রিয়াদে ফ্লাইট চালুর পরই বিস্ফোরণ, ফের আতঙ্ক

টানা দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল শুরুর ঘোষণা দেওয়ার পরপরই সৌদি আরবের রাজধানীতে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

টানা দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল শুরুর ঘোষণা দেওয়ার পরপরই সৌদি আরবের রাজধানীতে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোরে পরপর তিনটি বিকট শব্দে শহরজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার হুমকির মধ্যেই রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পুনরায় চালুর ঘোষণা দেয় সৌদি কর্তৃপক্ষ। বিমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা ফ্লাইটরাডারের তথ্য অনুযায়ী, রোববার ভোরে বিমানবন্দরটি থেকে একটি উড়োজাহাজ উড্ডয়ন করে। তবে বিমান চলাচল পুনরায় শুরুর পরপরই বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এএফপির একজন প্রতিনিধি জানান, ভোরের দিকে রিয়াদে পরপর তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এ সময় সাধারণ নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দিয়ে জরুরি মোবাইল সতর্কবার্তা পাঠায় স্থানীয় প্রশাসন।

সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের দাবি, রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও দুটি সামরিক ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় সৌদি আরবের তিনটি বিমানবন্দর, জ্বালানি স্থাপনা, পাইপলাইন ও একটি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে হুতি বিদ্রোহীরা।

বিমানবন্দর চালুর ঘোষণার পর হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে অনিরাপদ এবং তাদের বাহিনীর জন্য সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি দেশি-বিদেশি বিমান সংস্থা, বিমানকর্মী ও যাত্রীদের রিয়াদ বিমানবন্দর ব্যবহার না করার সতর্কতা দেন। বিমানবন্দর চালু রাখার কারণে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে তার দায় সৌদি প্রশাসনকে নিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এর আগে চলতি মাসে বিমানবন্দরে এক প্রাণঘাতী হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত এক দশকে সৌদি আরবের ভূখণ্ডে এটিকে অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

এদিকে সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, শনিবার মক্কা ও মদিনা অঞ্চলের আকাশে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার পর সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পড়ে। তবে পবিত্র দুই শহরকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে হুতি গোষ্ঠী।

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় এডেন শহরে সৌদি বাহিনীর একটি নৌঘাঁটি ও সামরিক শিবিরেও হামলা চালানোর দাবি করেছে বিদ্রোহীরা। চলমান সংঘাত সৌদি আরবের বিমান চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে। পরিস্থিতির মধ্যে রিয়াদে ফ্লাইট চলাচল কতটা স্বাভাবিক থাকবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.