বিমানবন্দরে হট্টগোলের মামলায় জামিন পেলেন আখতারুজ্জামান
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হট্টগোল, নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করা এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মামলায় জামিন পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হট্টগোল, নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করা এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মামলায় জামিন পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান। রোববার (১ নভেম্বর) হাইকোর্ট তাঁর জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আদালতে আখতারুজ্জামানের পক্ষে আইনি লড়াই করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। নিম্ন আদালতে জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার পর হাইকোর্টে রিভিশন ও জামিনের আবেদন করেছিলেন তাঁর আইনজীবীরা।
মামলার নথি ও বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ২ অক্টোবর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংগ্রহকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়ানোর অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও করা হয় তাঁর বিরুদ্ধে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরে উত্তেজনা ও হট্টগোল ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ওই দিনই পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। পরে বিমানবন্দরের কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করা এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।
গ্রেফতারের পর মামলার তদন্তের স্বার্থে পুলিশ আখতারুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেয়। চার দিনের রিমান্ড শেষে গত ৪ অক্টোবর তাঁকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির করা হয়। ওই দিন তাঁর আইনজীবীরা প্রথম দফায় জামিনের আবেদন করেন। তবে শুনানি শেষে নিম্ন আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
নিম্ন আদালতের ওই আদেশের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে হাইকোর্টে রিভিশন ও জামিনের আবেদন করেন আখতারুজ্জামানের আইনজীবীরা। রোববার হাইকোর্টে আবেদনটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।
হাইকোর্টের এ আদেশের ফলে বিমানবন্দরের ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আখতারুজ্জামানের জামিন পাওয়ার পথ তৈরি হলো। তবে মামলার অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর।
