প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগে সৌদি থেকে ফিরল প্রবাসীর মরদেহ
সৌদি আরবে মৃত্যুর ২৭ দিন পর দেশে ফিরেছে ময়মনসিংহের নান্দাইলের প্রবাসী তরুণ মো. মৃদুল হাসান সৌরভের (২৩) মরদেহ।
সৌদি আরবে মৃত্যুর ২৭ দিন পর দেশে ফিরেছে ময়মনসিংহের নান্দাইলের প্রবাসী তরুণ মো. মৃদুল হাসান সৌরভের (২৩) মরদেহ। তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর উদ্যোগে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শুক্রবার দিবাগত রাতে তার মরদেহ দেশে আনা হয়। পরিবারের একমাত্র প্রবাসী ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা স্বজনদের কাছে মরদেহ ফিরিয়ে আনতে প্রতিমন্ত্রীর এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
সৌরভ ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের দেউলডাংরা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের সোহরাব হোসেনের ছেলে। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় প্রায় ১৬ মাস আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু প্রবাসজীবনের শুরুতেই নেমে আসে মর্মান্তিক পরিণতি। গত ১০ অক্টোবর জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে সৌদি আরবে মারা যান এই তরুণ।
ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই শোকে ভেঙে পড়েন সৌরভের পরিবারের সদস্যরা। একমাত্র প্রবাসী ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন করবেন, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েন তার বাবা-মা। আর্থিক ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে মরদেহ দেশে আনা নিয়েও দুশ্চিন্তায় ছিলেন তারা।
এ অবস্থায় ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনের সংসদ সদস্য ও তথ্য এবং সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর উদ্যোগে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে মৃত্যুর ২৭ দিন পর সৌরভের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো সম্ভব হয়।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে সৌদি আরব থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় সৌরভের মরদেহ। এ সময় মরদেহ গ্রহণ করতে বিমানবন্দরে উপস্থিত হন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর সরকারি সহায়তার অংশ হিসেবে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সৌরভের পরিবারের হাতে ৩৫ হাজার টাকার একটি চেক হস্তান্তর করা হয়। প্রবাসে কর্মরত অবস্থায় কোনো শ্রমিক মারা গেলে তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই অর্থ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, প্রবাসী শ্রমিকেরা দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রবাসে কর্মরত অবস্থায় রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের এমন অকালমৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। সরকার সব সময় প্রবাসী শ্রমিক ও তাদের পরিবারের পাশে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে ছেলের মরদেহ ফিরে পাওয়ার পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বাবা সোহরাব হোসেন। তিনি বলেন, একমাত্র ছেলের মৃত্যুর পর কী করবেন, তা বুঝে উঠতে পারছিলেন না। বিশেষ করে কীভাবে ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনবেন, সে বিষয়েও কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না। পরে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ছেলের মরদেহ দেশে আনতে পেরেছেন।