এবার হজ পালনের সুযোগ পাচ্ছেন ১ লাখ ২৭ হাজার বাংলাদেশি

TOPSHOTS Muslim pilgrims perform the final walk (Tawaf al-Wadaa) around the Kaaba at the Grand Mosque in the Saudi holy city of Mecca on November 30, 2009. The annual Muslim hajj pilgrimage to Mecca wound up without the feared mass outbreak of swine flu, Saudi authorities said, reporting a total of five deaths and 73 proven cases. AFP PHOTO/MAHMUD HAMS (Photo credit should read MAHMUD HAMS/AFP/Getty Images)

২০১৭ সালে পবিত্র হজ পালনের সুযোগ পাচ্ছেন ১ লাখ ২৭ হাজার বাংলাদেশি। এ সংখ্যা গত বছর থেকে প্রায় ২৬ হাজার বেশি। যারা চলতি বছর হজ পালনে ইচ্ছুক, তাদের অনলাইনে প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম আগামী ১৫ জানুয়ারি শুরু হবে।

এদিকে, চলতি বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীর প্রাক-নিবন্ধন ও নিবন্ধনের অর্থ জমা নিতে সোনালীসহ মোট ২৫টি ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। গত ৮ জানুয়ারি পাঠানো এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

জানা গেছে, ২০১৩ সাল থেকে পবিত্র মক্কা শরিফে সংস্কারকাজ শুরু করায় বিশ্বের সব দেশকে সংরতি কোটার থেকে শতকরা ২০ ভাগ কমসংখ্যক হজযাত্রী পাঠানোর একটি নির্দেশনা জারি করে সৌদি সরকার। ওই নির্দেশনার কারণে অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশও প্রাপ্ত কোটা থেকে ২০ শতাংশ হজযাত্রী কম পাঠায়। প্রায় ৪ বছর ধরে চলা সংস্কারকাজ প্রায় সম্পন্ন হওয়ায় সৌদি সরকার চলতি বছরে থেকে ২০ শতাংশ কম হজযাত্রী পাঠানোর নির্দেশনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে বাংলাদেশ সংরক্ষিত কোটা অনুযায়ী ২০১৭ সাল থেকে হজযাত্রী পাঠাতে সক্ষম হবে।

এদিকে, ২০১৭ সালের হজব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সম্পর্কে রাজকীয় সৌদি সরকারের দিকনির্দেশনা জানতে ধর্মবিষয়ক সচিব মো. আব্দুল জালিলের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল গত ৩১ ডিসেম্বর সৌদি আরব যান। প্রতিনিধি দলটি সৌদি আরব অবস্থানকালীন সময়ে দেশটির হজবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে সেদেশের কর্মকর্তারা ২০১২ সালে যে ভিত্তিতে হজব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালিত হতো সে নিয়মে ফিরে যাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এ বিষয়ে ধর্মবিষয়ক সচিব মো. আব্দুল জলিল গতকাল মঙ্গলবার বিকালে বলেন, সৌদি সরকারের হজ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। তারা আমাদের জানিয়েছেন, ২০১২ সালে যে নীতির ভিত্তিতে হজব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে, এবার থেকে সে ভিত্তিতে হজব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তবে হজচুক্তির আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে ২০১৭ সালে হজ পালনের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে রাজকীয় সৌদি সরকারের হজচুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কথা। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ধর্মমন্ত্রী এবং সৌদি সরকারের পক্ষে হজমন্ত্রী চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, জনসংখ্যার অনুপাতে এক লাখ ২৭ হাজার বাংলাদেশি হজ পালনের কোটা রয়েছে। এবার প্রাপ্ত কোটা অনুযায়ী ১ লাখ ২৭ হাজার বাংলাদেশিকে হজ পালনের অনুমতি দিতে সৌদি সরকারকে প্রস্তাব দেওয়া হবে।

এদিকে, হজ অফিসের পরিচালক ড. মো. আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়ছে, ২০১৭ সালে যারা হজ পালনে ইচ্ছুক তাদের প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম সারা দেশে আগামী ১৫ জানুয়ারি শুরু করা হবে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনে আগ্রহীদের ৩০ হাজার আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের ৩০ হাজার ৭৫২ টাকা জমা দিয়ে অনলাইনে প্রাক-নিবন্ধন করতে হবে। ২০১৬ সালে হজ পালনের জন্য ১ লাখ ৩৮ হাজার বাংলাদেশি প্রাক-নিবন্ধন করেছিলেন। সরকারি বিভিন্ন টিমের সদস্য ও প্রাক-নিবন্ধিত হজযাত্রী মিলিয়ে ১ লাখ ১ হাজার ৮২৯ জন হজ পালন করতে পেরেছেন। নিবন্ধন করেও ২০১৬ নালে ৩৬ হাজারের বেশি হাজার হজযাত্রী যেতে পারেনি। ২০১৭ সালে তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন করে প্রাক-নিবন্ধন শুরু করা হবে।

বিজনেস অটোমেশন লিমিটেডের আইটি ইনচার্জ কেএএম আলম বলেন, প্রাক-নিবন্ধনের সময় হজযাত্রীদের ডেটা অনলাইনে এন্ট্রিকালে যেন কোনো ধরনের ত্রুটিবিচ্যুতি না হয়, সেজন্য জেলা প্রশাসকের অফিস, ইসলামিক ফাউন্ডেশন অফিস, ইউডিসি এবং সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সির প্রতিনিধিদের কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে। প্রাক-নিবন্ধনকালে হজযাত্রীদের জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি এবং ১৮ বছরের কম বয়সী হজযাত্রীদের জন্মনিবন্ধনের ফটোকপি দিতে হবে। আর প্রবাসী বাংলাদেশিদের ওয়ার্কপারমিট বা সিটিজেনশিপ কার্ডের ফটোকপি দিতে হবে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.