চলতি মৌসুমের হজযাত্রী (সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনা) নিবন্ধনে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা আজ সোমবার শেষ হচ্ছে। এক দফা সময় বাড়ানোর পরও গতকাল রবিবার পর্যন্ত এক লাখ ২৭ হাজার হজযাত্রীর মধ্যে নিবন্ধন হয়েছে সরকারি-বেসরকারি মিলে মাত্র তিন হাজার ২২২ জনের। প্রাক-নিবন্ধনে অনিয়মের অভিযোগ এনে বরাবরের মতো এবারও নিবন্ধন করা থেকে বিরত রয়েছেন এজেন্সিগুলোর মালিকরা।
বিভিন্ন দাবিতে বর্ধিত সময়সীমার মধ্যেও নিবন্ধনে সাড়া দেয়নি বেসরকারি হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। তারা নতুন করে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে আজ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে ধর্মসচিব মো. আবদুল জলিল জানিয়েছেন।
সূত্র মতে, গত ২২ মার্চ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে ২৮ থেকে ৩০ মার্চের মধ্যে হজযাত্রী নিবন্ধনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের নিবন্ধন শুরু হলেও বিভিন্ন দাবিতে তা বর্জন করে হাব। একপর্যায়ে ২৯ মার্চ অন্য এক বিজ্ঞপ্তিতে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত নিবন্ধনের সময় বাড়ানোর ঘোষণা দেয় মন্ত্রণালয়।
তবে ৩০ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে হাবের পক্ষ থেকে আলটিমেটাম দেওয়া হয়, প্রাক-নিবন্ধনের জটিলতা নিরসনের আগে তারা কোনো হজযাত্রী নিবন্ধন করবে না। একই সঙ্গে ৫০ হাজার হজযাত্রীর কোটা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ, নিবন্ধনের সময়সীমা ১৫ মে পর্যন্ত বৃদ্ধি, অভিজ্ঞ আইটি ফার্ম নিয়োগ দেওয়া ও সমতার ভিত্তিতে সব অপারেটিং এজেন্সির মধ্যে কোটা বণ্টন করে হজের নিবন্ধন সম্পন্ন করার দাবি জানায় সংগঠনটি। তবে নিবন্ধনের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগের দিন গতকাল পর্যন্ত এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানা গেছে। তবে বেসরকারি ব্যবস্থাপনার নিবন্ধনের সময় আজ আরেক দফা বৃদ্ধির ঘোষণা আসতে পারে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশ থেকে এ বছর এক লাখ ২৭ হাজার হজযাত্রী পবিত্র হজব্রত পালন করতে যাবেন। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত মাত্র তিন হাজার ২২২ জন হজযাত্রীর নিবন্ধন করা হয়েছে। হাবের পক্ষ থেকে নিবন্ধন কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা অব্যাহত থাকায় মাত্র দুই-তিনটি এজেন্সি ৩৩৩ জন হজযাত্রীর নিবন্ধন করেছে। আর সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধন করেছেন দুই হাজার ৮৮৯ জন। এই সময়ের মধ্যে ডাটা এন্ট্রি হয়েছে ৪৮৭টি এজেন্সির ৫১ হাজার ৩৩৭ যাত্রীর। আর সরকারি ব্যবস্থাপনায় ডাটা এন্ট্রি হয়েছে তিন হাজার ৩১৬ জন হজযাত্রীর।
এদিকে আগের দাবি থেকে কিছুটা পিছিয়ে এসে হজযাত্রী নিবন্ধনের জন্য ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময়সীমা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে হাব। এ সময়ের মধ্যে হজযাত্রীদের কাছ থেকে টাকা ও পাসপোর্ট সংগ্রহসহ অনেক সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করেছে সংগঠনটি।
গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে হাব মহাসচিব শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ এ দাবি জানান। তিনি জানান, ধর্মমন্ত্রীর সঙ্গে দুই-এক দিনের মধ্যে হাব নেতাদের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে সমস্যার সমাধান হবে বলে তাঁরা আশা করছেন। তবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় না বাড়ালে হজযাত্রী নিবন্ধন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না বলে জানান তিনি।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুল জলিল বলেন, সৌদি আরব গত কয়েক বছর থেকে ই-সিস্টেম প্রচলন করায় মার্চের মধ্যে নিবন্ধন শেষ করার কথা ছিল। গত ২৮ মার্চের মধ্যেই নিবন্ধন শেষ করার প্রস্তুতি ছিল মন্ত্রণালয়ের। কিন্তু দুই দফা সময় দিলেও বেসরকারি এজেন্সিগুলো সাড়া দেয়নি। তিনি জানান, হজযাত্রী নিবন্ধন নিয়ে হাবের দাবির বিষয়ে মন্ত্রী সিদ্ধান্ত দেবেন। আজ সময়সীমা শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
প্রসঙ্গত, এ বছর সৌদি আরবের সঙ্গে হজ চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের জন্য মোট এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের কোটা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ হাজার সরকারি কোটা রেখে বাকিটা বেসরকারি কোটায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় মাত্র তিন হাজার ৭৪৬ জন প্রাক-নিবন্ধন করলেও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এ সংখ্যা কোটার চেয়ে ৭০ হাজারের বেশি। কোটার সমসংখ্যকদের নিবন্ধনের সুযোগ দিয়ে বাকিদের আগামী বছরের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।