খুলনায় প্রচারে এগিয়ে আওয়ামী লীগ।
খুলনায় নির্বাচনী প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা। অন্যদিকে ধানের শীষের প্রার্থীরা সেভাবে প্রভাব ফেলতে পারেননি।
প্রার্থীদের পক্ষে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন জোর কদমে। দলীয় গ্রুপিং ও বিভেদ মিটিয়ে নির্বাচনী মাঠে সব নেতাকর্মীকে আনতে পেরেছে দলটি। বিভেদ ভুলে দলকে জেতাতে একাট্টা সবাই। পাড়া-মহল্লায় দিন-রাত চলছে মাইকিং, প্রার্থী-সমর্থকদের সভা-সমাবেশ-উঠোন বৈঠক। নির্বাচনী উৎসব বিরাজ করছে সব এলাকায়।
নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার পর খুলনায় আওয়ামী লীগের প্রচার-প্রচারণায় এসেছে নতুন মাত্রা। ইশতেহারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক দিক তুলে ধরে ভোটারদের নিজ নিজ পক্ষে টানার চেষ্টা করছেন প্রার্থীরা। পাড়া-মহল্লায় হ্যান্ডমাইক, প্রচার লিফলেট নিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন প্রার্থীরা। ভোটের মাঠে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং বিগত ১০ বছরে সরকারের বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরে ভোটারদের কাছে টানতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
এদিকে খুলনা-২ আসনের প্রার্থী বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল প্রার্থী হওয়ার পর খুলনায় অভ্যন্তরীণ কোন্দল অনেকটাই স্তিমিত হয়েছে। দীর্ঘদিন নগর সভাপতি ও সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক এবং নগর সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজানের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে অন্তর্কোন্দল বিরাজ করছিল। তবে শেষ মুহূর্তে মিজানকে মনোনয়ন না দিয়ে শেখ জুয়েলকে হাইকমান্ড প্রার্থী ঘোষণা করায় উভয়পক্ষের কর্মী-সমর্থকরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মাঠে ভোট চাইছেন নৌকা প্রতীকের পক্ষে। অন্যদিকে সাবেক এমপি মিজানও গণসংযোগে মাঠে সরব আছেন। সব মিলিয়ে খুলনা-২ আসনে ভোটের মাঠ দখলে নিতে তৎপর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।
অন্যদিকে ধানের শীষের প্রার্থী ও নগর বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুর পক্ষেও উপস্থিতি রয়েছে মাঠে। এ আসনটি বিএনপির আসন হিসেবে পরিচিত হলেও প্রার্থী নিয়ে কপালে ভাঁজ পড়েছে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের। দিন-রাত এক করে ছুটছেন ভোটারদের কাছে। এরপরও অধিকাংশ নেতাকর্মীর নামে মামলা এবং মামলায় সামনের সারির নেতাদের জেলে থাকায় অনেকটা দুশ্চিন্তায় পার করছেন সময়। বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুলিশি হয়রানির অভিযোগও করেছেন এ নেতা। নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, আমাদের ভোট করতে হচ্ছে প্রার্থীর বিপক্ষে নয়, পুলিশের বিপক্ষে। ধানের শীষের কর্মীদের ওপর হামলা, মামলা, নির্যাতন, গণগ্রেফতার ও দমন-পীড়ন থেকে তার প্রমাণ মিলেছে। খুলনা-২ ও ৩ আসনে গত কয়েকদিনে নির্বিচারে গণগ্রেফতার ও নির্যাতনের অসংখ্য ঘটনা আছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার মতে, নির্বাচন করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। খুলনা-৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এগিয়ে রয়েছেন প্রচার-প্রচারণায়। দলীয় নেতাকর্মীরাও মাঠে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করছেন। প্রার্থীর পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীরাও কাজ করছেন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিরাজ করছে। সবার জন্য সমান সুযোগ রয়েছে। ভোটাররা নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুলের কর্মীদের মারধর এবং হামলা-মামলা দেয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি। তিনি বলেন, তার নির্বাচনী আসনে বিএনপির নেতাকর্মীদের মুক্তি দেয়া হচ্ছে না। বরং নতুন মামলায় অন্তত ১০ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। কোনো ঘটনা ছাড়াই নতুন নতুন মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের আতঙ্কে রাখার চেষ্টা করছে পুলিশ।
খুলনা-১ আসনে নির্বিঘ্নে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। বড় দুই দলের প্রার্থী আওয়ামী লীগের পঞ্চানন বিশ্বাস এবং বিএনপির আমীর এজাজ খান জানান, নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে দাকোপ-বটিয়াঘাটাবাসীর মধ্যে।
খুলনা-৫ এবং খুলনা-৬ আসনে পুলিশি নির্যাতন এবং হামলার অভিযোগ করেছেন ধানের শীষের প্রার্থীরা। নির্বাচনী মাঠে দাঁড়াতে পারছেন না জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং কারাগারে থাকা প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের কর্মী-সমর্থকরা। এ দুই আসনে গত এক সপ্তাহে অন্তত ৭টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় কয়েকশ’ নেতাকর্মী আসামি। এছাড়া আটক হয়েছে শতাধিক কর্মী-সমর্থক। তবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন খুলনা-৫ আসনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এবং খুলনা-৬ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আক্তারুজ্জামান বাবু। প্রতিপক্ষ মাঠে দাঁড়াতে না পারার কারণে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তাদের কর্মী-সমর্থকরা। প্রচারণাতেও এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগের এ দুই প্রার্থী।
তবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস দিয়েছে খুলনা-৪ আসনে। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নেতা আজিজুল বারী হেলাল এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী ব্যবসায়ী নেতা সালাম মুর্শেদী। নিজেদের জয় পেতে মরিয়া এ দুই নেতা নির্বিঘ্নে মাঠ গোছাতে ব্যস্ত। তবে পুলিশি হামলা ও হয়রানির অভিযোগ করেছেন হেলাল। একাধিক মামলায় তার দলের ২৫-৩০ নেতাকর্মী কারাগারে রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সালাম মুর্শেদী বলেন, খুলনা-৪ আসনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড রয়েছে। সবাই সমানভাবে কাজ করছে।
