দুই ভাইয়ের হাতে দুই ভাই খুন।
ভালুকা উপজেলার দুইটি গ্রামে শুক্রবার চার ঘণ্টার ব্যবধানে দুই ভাইয়ের হাতে দুই ভাই খুন হয়েছেন। সকালে উপজেলার মল্লিকবাড়ি ইউনিয়নের নয়নপুর গ্রামে বড় ভাই ধনু মিয়ার হাতে ছোট ভাই রউফ মিয়া খুন হন।
অপরদিকে বিকালে ভালুকা ইউনিয়নের নিশাইগঞ্জ গ্রামে ছোট ভাই আজিম উদ্দিনের হাতে বড় ভাই আবদুল মালেক খুন হন। এ ঘটনায় গ্রামবাসী ঘাতক আজিমকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
নিহত রউফের সৎমা সুরজান জানান, বৃহস্পতিবার রাতে বড় ভাই ধনুর ঘরের পাশে ছোট ভাই রউফ প্রশ্রাব করেন। এ নিয়ে শুক্রবার সকালে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ধনু কাঠের লাঠি দিয়ে রউফকে বেধড়ক পেটান। এতে রউফ মারাত্মক আহত হন। ঝগড়া থামাতে গিয়ে তাদের বাবা তমিজ উদ্দিনও আহত হন। দুপুর ১২টার দিকে রউফ অসুস্থ হয়ে পড়লে ধনু তাকে ভালুকা উপজেলা কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করলে ধনু হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়।
অপরদিকে ভালুকা ইউনিয়নের নিশাইগঞ্জ গ্রামের হেকমত আলীর বড় ছেলে আবদুল মালেক (৫৫) ও ছোট ছেলে আজিম উদ্দিনের (৪৫) মধ্যে চার শতক জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। মাসখানেক আগে বাড়িতে নতুন ঘর নির্মাণ করেন আজিম। এতে মালেক ক্ষুব্ধ হয়ে আজিমের বাড়ির রাস্তা বন্ধ করে দেন।
এ নিয়ে দুই ভাইয়ের পরিবারের মধ্যে সকালে ঝগড়া হয়। বিকালে দুই ভাইয়ের কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আজিম বড় ভাই মালেকের মাথায় বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এতে মালেক গুরুতর আহত হন। ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে তিনি মারা যান। মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছলে গ্রামবাসীরা আজিমকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. নাঈমা জানান, মাথায় আঘাতের কারণে দু’জনেরই মৃত্যু হয়েছে। ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ফিরোজ তালুকদার জানান, পারিবারিক কলহ ও জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতালে ছোট ভাইয়ের লাশ রেখে বড় ভাই ধনু পালিয়ে গেছে। অপর ঘটনায় ঘাতক আজিমকে আটক করা হয়েছে।
