ঢাকায় নারী পুলিশ সুপার নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক, সামনে এল শামীমা পারভীনের বঞ্চনার গল্প
বিশেষ প্রতিনিধি : ঢাকার নতুন নারী পুলিশ সুপার হিসেবে শামীমা পারভীনের নিয়োগকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। কেউ এই নিয়োগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন এর পেছনের প্রেক্ষাপট নিয়ে।
তবে এই বিতর্কের মধ্যেই সামনে এসেছে এক ভিন্ন গল্প—একজন মেধাবী পুলিশ কর্মকর্তার দীর্ঘ ১৫ বছরের বঞ্চনার ইতিহাস, যা এতদিন আড়ালেই ছিল।
বিসিএস ২৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা শামীমা পারভীন ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই দক্ষতা ও যোগ্যতার পরিচয় দিলেও, অভিযোগ রয়েছে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তিনি দীর্ঘদিন প্রশাসনিকভাবে কোণঠাসা ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তার আদর্শিক ভিন্নতা এবং বিএনপি-ঘনিষ্ঠ পরিচয়ের কারণে তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে দূরে রাখা হয়।
জানা যায়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে শামীমা পারভীন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তার স্বামী রকিবুল ইসলাম বকুল বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত—যা তার ক্যারিয়ারে প্রভাব ফেলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় তাকে পুলিশ সদর দপ্তরের বিভিন্ন কম গুরুত্বপূর্ণ ডেস্কে রাখা হয়, যেগুলোকে অনেকে ‘ডাম্পিং পোস্টিং’ হিসেবে অভিহিত করেন। ফলে তার পদোন্নতি ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।
তবে সাম্প্রতিক এই নিয়োগকে অনেকেই দেরিতে হলেও ‘ন্যায়বিচার’ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, মেধা ও ধৈর্যের স্বীকৃতি একসময় আসে—যদিও তা বিলম্বিত হয়।
অন্যদিকে, সমালোচকদের একটি অংশ বলছেন, প্রশাসনে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি এবং যেকোনো নিয়োগই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব, মেধার মূল্যায়ন এবং নিরপেক্ষতার প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে—যা ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
