বান্দরবান সীমান্তে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় দুইশতাধিক শরণার্থী, সতর্ক বাংলাদেশ

মিয়ানমারের চীন রাজ্যে আরাকান আর্মির সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনায় আতঙ্কে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় বান্দরবানের রুমা সীমান্তে প্রায় দুই শতাধিক শরনার্থী ভিড় জমিয়েছে।

রোববার বিকাল থেকে শরণার্থীদের ভিড় বাড়ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

বিজিবি ও স্থানীয়রা জানায়, জেলার মিয়ানমার সীমান্তবর্তী রুমা উপজেলার দুর্গম রেমাক্রী পাংসা ইউনিয়নের ৭২নং পিলারের কাছে চাইক্ষিয়াং পাড়ার অপরপ্রান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ২ শতাধিক শরনার্থী এখন ভিড় জমিয়েছে। মিয়ানমারের চীন রাজ্যের প্লাতোয়া জেলায় গত কিছুদিন ধরে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপ আরাকান আর্মির সঙ্গে সে দেশের সেনাবাহিনীর দফায় দফায় ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় প্লাতোয়া জেলার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। আতঙ্কে বাংলাদেশ সীমান্তের বান্দরবানের পার্শবর্তী এলাকায় বসবাসরত প্রায় দুই শতাধিক শরনার্থী বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন সীমান্ত অঞ্চলের লোকজনেরা। তবে শরনার্থীরা যাতে বাংলাদেশের ভুখণ্ডে অনুপ্রবেশ করতে না পারে সে জন্য রুমা ব্যাটালিয়নের সেনাবাহিনী ও বিজিবির ৪টি টহল দল এখন সীমান্তঞ্চলে অবস্থান করছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিজিবির বান্দরবান সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল জহিরুল ইসলাম জানান, সীমান্তঞ্চলে অবস্থানরত শরনার্থীরা যাতে কোনোভাবেই বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে না পারে সেজন্য সীমান্তে সতকর্তাবস্তা জারি করা হয়েছে। সীমান্তের সম্ভাব্য স্থানগুলোতে টহল দল পাঠানো হয়েছে।

রেমাক্রী পাংসার ইউপি চেয়ারম্যান জিরা বম বলেন, সীমান্তের ওপারে চীন রাজ্যের প্লাতোয়া জেলার খামংওয়া, তরোয়াইন, কান্তালিন, এলাকাগুলোর বিভিন্ন পাড়ায় ব্যাপিক গোলাগুলি এবং হেলিকপ্টার থেকে বোমাবর্ষণ করছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এসব জায়গা থেকে মিয়ানমারের খুমি, খেয়াং, বম এবং রাখাইন সম্প্রদায়ের প্রায় ২ শতাধিক নারী পুরুষ ও শিশু আতঙ্কে বাংলাদেশের সীমান্তে অনুপ্রবেশের জন্য চলে এসেছে। তারা এখন রুমা উপজেলার রোমাক্রী পাংসা ইউনিয়নের চাইক্ষাং সীমান্তের ওপারে তিদং এলাকায় জড়ো হয়েছে।

তিনি বলেন, ভিড় করা শরনার্থীরা বান্দরবান সীমান্তের চাইক্ষিয়াং পাড়া, নেপু পাড়াসহ কয়েকটি পাড়ায় অবস্থানের জন্য চেষ্টা করছে। এরা সবাই মিয়ানমারের ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর লোকজন।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে মিয়ানমারের রাখাইন ও চীন রাজ্যে সেখানকার শক্তিশালী বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপ আরাকান আর্মি সে দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি ও সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকটি স্থাপনায় হামলা করে। এর পর থেকে সেখানে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মির ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে।

অপরদিকে ২০১৭ সালের আগষ্টে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ব্যাপক সংঘর্ষের পর সেখান থেকে ৭ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয়।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.