ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ছাড়!

ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ছাড়!

চলতি সপ্তাহে ইরানের পাঁচটা পরমাণু কর্মসূচিতে নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের ঘোষণা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে রাশিয়া, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো ইরানের সঙ্গে বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতা চালিয়ে যেতে পারবে।

মঙ্গলবার ওয়াশিংটন পোস্টের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এমন তথ্য দিয়েছে।

দেশটির অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মানুচিনকে পাশে নিয়ে গত সপ্তাহে ওভাল অফিসে বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এই নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন আপত্তি জানালেও স্টিভেন মানুচিন এর পক্ষেই যুক্ত দিয়েছেন।

মানুচিনের যুক্তি, আইন মেনে আগামী পহেলা আগস্ট যদি নিষেধাজ্ঞায় ফের ছাড় দেয়া না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রকে রাশিয়া, চীন ও ইউরোপীয় ফার্মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি অনুসারে ইরানের ভেতর এই কর্মসূচি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। তবে এ নিয়ে কথা বলতে চাইলে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত মে মাসে সাতটা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পাঁচটিতে নব্বই দিনের জন্য ছাড় দেয়ার ঘোষণা দেন মাইক পম্পেও। এতে বুশার পারমাণবিক চুল্লি, ফোরডো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা, আরাক পরমাণু কমপ্লেক্স ও তেহরান গবেষণা চুল্লির কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পায় ইরান।

গত বছর ইরান ও ছয় বিশ্বশক্তির মধ্যে পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নিয়ে যান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করার বদলেও আরও বড় চুক্তি চেয়েছেন তিনি।

এছাড়া সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন, লেবাননে শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির ছায়াযুদ্ধের লাগাম টেনেও ধরতে চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের তেল রফতানির সুযোগ একেবারে চেপে ধরতে গত মে মাস দেশটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

রাশিয়া, চীনা ও ইউরোপীয় কোম্পানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার সম্ভাব্য ফল নিয়ে ভাবতে আরও সময় চেয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী।

এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা ছাড় যেকোনো সময় প্রত্যাহার করে নেয়া হতে পারে। ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের কতটা উন্নয়ন ঘটছে, তার ওপর নির্ভর করছে, পরবর্তী সময়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.