হিলারি ও ট্রাম্পের জয়, রুবিওর প্রস্থান

dbf239b6262ab2f5b77233962cfc7274-Untitled-5যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য গতকাল মঙ্গলবারের গুরুত্বপূর্ণ বাছাইপর্বে ডেমোক্রেটিক দলের হিলারি ক্লিনটন ও রিপাবলিকান দলের ডোনাল্ড ট্রাম্প বড় ধরনের জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন।

হিলারি ও ট্রাম্প চারটি করে অঙ্গরাজ্যে জয় পেয়েছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মিজৌরিতে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বার্নি স্যান্ডার্সের সঙ্গে হিলারি এবং টেড ক্রুজের সঙ্গে ট্রাম্প ভোট প্রায় সমান সমান ভাগাভাগি করে নিয়েছেন।

রিপাবলিকান গভর্নর জন কেইসিক তাঁর নিজের অঙ্গরাজ্য ওহাইওতে জয় পেয়েছেন। কিন্তু মার্কো রুবিও নিজের অঙ্গরাজ্য ফ্লোরিডায় পরাজিত হয়ে মনোনয়নের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

অধিকাংশ ভাষ্যকারই একমত, গতকালের বাছাইপর্বের ভোটের পর হিলারি তাঁর মনোনয়ন নিশ্চিত করতে আরও একধাপ এগিয়ে গেলেন। হিলারির ঝুড়িতে এখন পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৫৫৯ ডেলিগেট রয়েছে। স্যান্ডার্সের মাত্র ৮০০। মনোনয়ন পাওয়ার জন্য কমপক্ষে ২ হাজার ৩৮২ ডেলিগেটের সমর্থন প্রয়োজন। এখনো অনেক প্রাইমারি নির্বাচন বাকি। কিন্তু জনমত জরিপ ও নির্বাচনের গতিধারা দেখে এ কথা বলা যায় যে, স্যান্ডার্সের পক্ষে মনোনয়নের লড়াইয়ে টিকে থাকা কার্যত অসম্ভব।

রিপাবলিকান দলের হিসাবটা অবশ্য কিছুটা জটিল। কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে চমৎকার ফলাফলের জোরে ট্রাম্প এখন পর্যন্ত ৬২১ জন ডেলিগেটের সমর্থন অর্জন করেছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রুজের রয়েছে ৩৯৬ জন ডেলিগেট। ওহাইওতে জয়ের সুবাদে কেইসিক সব মিলিয়ে পেয়েছেন মোট ১৩৮ জন ডেলিগেটের সমর্থন। জুলাইয়ের দলীয় কনভেনশনে মনোনয়ন নিশ্চিত করতে এঁদের কোনো একজনকে কমপক্ষে ১ হাজার ২৩৭ ডেলিগেটের সমর্থন পেতে হবে।

গতকালের বাছাইপর্বের সবচেয়ে বড় খবর ছিল সিনেটর মার্কো রুবিওর পরাজয় এবং প্রতিযোগিতা থেকে তাঁর প্রস্থান। রুবিওই ছিলেন রিপাবলিকান দলের নেতৃত্ব ও বড় চাঁদাদাতাদের সবচেয়ে প্রিয় মনোনয়নপ্রত্যাশী। তাঁরা আশায় ছিলেন, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রধান বাধা আসবে রুবিওর কাছ থেকে। কিন্তু নিজ অঙ্গরাজ্যে ব্যাপক ব্যবধানে পরাজয়ের পর তাঁর মনোনয়ন লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আর কোনো যৌক্তিকতা ছিল না। নিজের সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময় রুবিও স্বীকার করেন, তিনি যে ‘আশাবাদী বার্তা’ নিয়ে লড়াইয়ে নেমেছিলেন, এ বছর ভোটারদের ক্রোধ ও হতাশার মুখে তা নিয়ে টিকে থাকা অসম্ভব ছিল।

এদিকে টেক্সাসের সিনেটর ক্রুজ এখনো জোরের সঙ্গে বলছেন, তিনি একমাত্র প্রার্থী, যার পক্ষে ট্রাম্পকে পরাস্ত করা সম্ভব। কেইসিকের নাম উল্লেখ না করে তিনি সব রিপাবলিকান সমর্থককে তাঁর প্রার্থিতার পেছনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আবেদন করেছেন।

এই নির্বাচনী-প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘ সময় ধরে চলবে। পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমের জনবহুল অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে এখনো প্রাইমারি হয়নি। ডেমোক্র্যাটদের জন্য সুখবর, হিলারির জন্য বিজয় নিশ্চিত হওয়া এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। নিজের বিজয় সম্বন্ধে আস্থাবান হলেও প্রয়োজনীয় ডেলিগেট সংগ্রহ না হওয়া পর্যন্ত স্যান্ডার্স প্রতিযোগিতায় টিকে থাকুন, এটাই চান হিলারি।

হিলারি জানেন, স্যান্ডার্সের কারণে ডেমোক্রেটিক মহলে তরুণদের মধ্যে অভাবিত সাড়া জেগেছে। তিনি (হিলারি) এমন কিছু করতে চান না যার ফলে এই তরুণ ভোটারেরা তাঁর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন।

রিপাবলিকান দলের অবস্থা অবশ্য ভিন্ন। ট্রাম্পকে ঠেকানোর বিস্তর চেষ্টা সত্ত্বেও এই ক্যাসিনো ব্যবসায়ী তাঁর বিজয়যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন। দলের নীতিনির্ধারক মহল আশা করছেন, ট্রাম্প-ক্রুজ-কেইসিক—এই ত্রিমুখী লড়াই যদি অব্যাহত থাকে, তা হলে ট্রাম্প এককভাবে সর্বাধিক ডেলিগেট পেলেও প্রয়োজনীয় ১ হাজার ২৩৭ জন ডেলিগেটের সমর্থন অর্জন করতে সক্ষম হবেন না।

দলীয় কনভেনশনে ডেলিগেটদের ভোটে প্রার্থিতা চূড়ান্ত হবে। সেখানে প্রথম ব্যালটে ভোট হওয়ার পর ডেলিগেটরা তাঁদের প্রতিশ্রুত প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিতে আর বাধ্য নন। এ পরিস্থিতিতে দলের নেতৃত্ব পেছন থেকে তাঁদের প্রভাব খাঁটিয়ে অন্য কোনো প্রার্থীর মনোনয়ন নিশ্চিত করার চেষ্টা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্পিকার পল রায়ান কিংবা ২০১২ সালের রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী মিট রমনির নামও কেউ কেউ প্রস্তাব করেছেন।

তবে এর ফলে যে দলে ভাঙন ধরবে এবং তৃতীয় কোনো প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমে পড়বেন না, তার সম্ভাবনা একদম উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.