ই-হজের আওতায় হজে যেতে প্রথমবারের মতো প্রাক-নিবন্ধন পদ্ধতি চালু করতে যাচ্ছে সরকার। হজের নতুন নিয়ম অনুযায়ী প্রাক-নিবন্ধনের সময় জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এনআইডিতে কোনো ভুল কিংবা অসংগতি থাকলে নিবন্ধন করা যাবে না। হজ এজেন্সি মালিকদের সংগঠন ‘হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) আশংকা শুধু এ জটিলতায় এবার হজে যেতে পারবেন না প্রায় ৫০ শতাংশ হজযাত্রী। তাদের অভিযোগ, জাতীয় পরিচয়পত্রের ভুল তথ্য সংশোধন করতে ইতিমধ্যেই বিপুলসংখ্যক সম্ভাব্য হজযাত্রী আবেদন করেছেন। কিন্তু দীর্ঘ দিন অপেক্ষার পরও অদ্যাবধি তারা সংশোধিত এনআইডি পাননি।
তবে ধর্ম মন্ত্রণালয় বলছে, এনআইডির তথ্য তাৎক্ষণিক সংশোধনের ব্যবস্থা করতে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ অবস্থায় আজ রোববার বেলা ১১টায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ে হজের প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ধর্ম সচিব আবদুল জলিল বলেন, প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হলেও ২৩ মার্চ থেকে সারা দেশে পুরোদমে প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে। ২১ মার্চ সোনালি ব্যাংকসংশ্লিষ্ট ২৪টি ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি করার পর ২২ মার্চ মনোনীত এজেন্সিগুলোকে ‘ইউজার পাসওয়ার্ড’ দেয়া হবে। যার মাধ্যমে তারা অনলাইনে ঢুকে প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এবার সরকারিভাবে হজে যেতে চাইলে ৩০ হাজার এবং বেসরকারিভাবে ৩০ হাজার ৭৫২ টাকা জমা দিয়ে অনলাইনে প্রাক-নিবন্ধন করতে হবে। প্রাক-নিবন্ধনের পর একটি নিবন্ধন নম্বও দেয়া হবে। এরপর হজ প্যাকেজের বাকি টাকা জমা দিলে একটি আইডি নম্বও দেয়া হবে। এই নম্বর ব্যবহার করে ব্যাংকের ছাড়পত্র আনার পর হজের ভিসার জন্য পিলগ্রিম আইডি নম্বর দেয়া হবে। এরপরই দেয়া হবে হজের ভিসা। এসব ধাপের কোনো একটিতে বিচ্যুতি ঘটলে হজে যাওয়া যাবে না। প্রাক-নিবন্ধনের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির এনআইডিতে কোনো ভুল বা অসংগতি থাকলে নিবন্ধন করা যাবে না। প্রাক-নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সব ব্যক্তির জন্য এনআইডির তথ্য দেয়া বাধ্যতামূলক। এর কম বয়সীদেও ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন সনদ দিতে হবে।
এমতাবস্থায় হজে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা, বিশেষ করে যাদের এনআইডিতে ভুল বা অসংগতি রয়েছে, তারা নানা আশংকায় ভুগছেন। তাদের মতে, একজন নাগরিকের জন্য তার পাসপোর্টের তথ্যই যথেষ্ট, সেখানে কেন এনআইডির তথ্য দিতে হবে? আর এখনও অনেকের এনআইডির তথ্যে নানা অসংগতি রয়েছে। দিনের পর দিন নির্বাচন কমিশনে ঘুরেও তারা এনআইডি সংশোধন করতে পারছেন না বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। দেশব্যাপী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন চলমান থাকায় নির্বাচন কমিশন ব্যস্ত নির্বাচন নিয়েই। ফলে সহসাই মিলছে না এনআইডির সংশোধন। চলতি বছর হজে যেতে ইচ্ছুক জনৈক শহিদুল্লাহ বলেন, পাসপোর্টে ‘মো. শহিদুল্লাহ’ হলেও এনআইডিতে উঠেছে ‘মোহাম্মদ শহিদ উল্লাহ’। গত এক মাস ঘুরেও এনআইডি সংশোধন করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ধরনের অসংখ্য সমস্যা তাদের কাছে আসছে জানিয়ে হাব সভাপতি মোহাম্মদ ইব্রাহিম বাহার বলেন, ‘এনআইডি জটিলতার কারণে প্রায় ৫০ শতাংশ হজযাত্রী ভোগান্তির শিকার হতে পারেন বলে মনে হচ্ছে। এনআইডির তথ্যে ভুল থাকলে প্রাক-নিবন্ধন করা যাবে না এটা বড় ধরনের সমস্যা। এ বিষয়ে এনআইডি প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের অফিসে হজযাত্রীদের জন্য বিশেষ শাখা খোলার জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আবদুল জলিল বলেন, ‘এনআইডি সংশোধনের জন্য আলাদা ডেস্ক খুলতে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। যারা দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা সেবা দেবে। আশা করি, এ নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না।’
প্রসঙ্গত, চলতি বছর সরকারিভাবে হজে যেতে পারবেন ১০ হাজার এবং বেসরকারিভাবে ৯১ হাজার ৭৫৮ জন।
সূত্রঃযুগান্তর
