‘বৃহন্নলা’র গান নিয়ে দেবজ্যোতি মিশ্রর প্রতিবাদ

b3ec31dd6bb9f2174a00c31c970b29d7-10দেবজ্যোতি মিশ্র ভারতের এ সময়ের বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় সুরকার ও সংগীত পরিচালক। ২০ মার্চ তিনি প্রথম আলোর কাছে অভিযোগ করেন, ঋতুপর্ণ ঘোষের হিন্দি ছবি রেইনকোট-এ তাঁর সুর করা ‘পিয়া তোরা ক্যায়সা অভিমান’ গানটির হুবহু অনুবাদ ও সুর ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে আরেকটি গান ‘পিয়া তোর কিসের অভিমান’। আর গানটি মুরাদ পারভেজ পরিচালিত বৃহন্নলা ছবিতে ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগটি দেওয়া হলো এখানে।
বৃহন্নলা ছবিতে সোহানা সাবা ও ফেরদৌসএকটি বিশেষ বিষয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই এই কলম ধরা। সম্প্রতি ইউটিউবে মুরাদ পারভেজ পরিচালিত বৃহন্নলা ছবির একটি গান শুনে আমি স্তম্ভিত বোধ করছি। ‘প্রিয় তোর কিসের অভিমান’ শীর্ষক গানটি প্রয়াত পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের রেইনকোট ছবিতে আমার সুরারোপিত ‘পিয়া তোরা ক্যায়সা অভিমান’-এর একেবারেই অনুরূপ। গানটি লিখেছিলেন ঋতুপর্ণ নিজেই। গেয়েছিলেন হরিহরণ এবং শুভা মুদগল। গানটি আমাদের উপমহাদেশে জনপ্রিয় হয়েছিল। এখন পারভেজ সাহেবের ছবির গানটির সঙ্গে আমাদের গানটির এই সাদৃশ্যকে ‘আপতিক’ বলে মেনে নেওয়া কিছুতেই সম্ভব নয়। কেন, তা দুটি গানকে পরপর শুনলেই বোঝা যায়।
একে কি ‘কুম্ভীলকবৃত্তি’ বলব? মন না মানলেও তা-ই বলতে হচ্ছে শেষ পর্যন্ত। আমার বাবা এবং মা দুজনেই সাবেক পূর্ববঙ্গের মানুষ ছিলেন। সে দেশের জল-মাটি-হাওয়াকে আমি আমার আত্মার অংশ বলেই মনে করি। সেই দেশ থেকে এমন কাজ যখন গোচরে আসে, মর্মাহত হয়ে বসে থাকা ছাড়া উপায় থাকে না।
আমার সামান্য সাংগীতিক ক্যারিয়ারে বাংলাদেশের সঙ্গেও কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এনামুল করিম নির্ঝর পরিচালিত আহা ছবিতে সুরারোপের সুযোগ পাই এবং সেই ছবির ‘লুকোচুরি লুকোচুরি গল্প’ গানটি ফাহমিদা নবীর কণ্ঠে এক প্রকার মান্যতাও পায়। সে এক মধুর স্মৃতি। বৃহন্নলার ঘটনা সেই স্মৃতিকেই যেন আঘাত করল।

পরিশেষে, ‘পিয়া তোরা ক্যায়সা অভিমান’ গানটির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে রয়েছে প্রয়াত ঋতুপর্ণের সঙ্গে হরিহরণ, শুভা মুদগল এবং সর্বোপরি গুলজারের মতো সৃজনশীল মানুষের নাম। বৃহন্নলার গানটি সেই সৃজনকেও ক্ষুণ্ন করছে বলে আমার মনে হয়। আপনারা গুণীর মর্যাদা চিরকাল দিয়ে এসেছেন। তাই আশা করব, আমার এই চিঠিটি প্রকাশ করে আরও একবার সেই মর্যাদা প্রদান করবেন।
দেবজ্যোতি মিশ্র এই প্রতিবাদ পাঠিয়েছেন ২০ মার্চ। পরদিন দুপুরে এ ব্যাপারে মুরাদ পারভেজ বলেন, ‘একই ধরনের কথা আর সুর যে রেইনকোট ছবিতে ব্যবহার করা হয়েছে, এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানতাম না। কিন্তু যখন জেনেছি, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। ছবি থেকে তা আর বাদ দেওয়ার উপায় নেই। পুরো ব্যাপারটির জন্য আমি লজ্জিত এবং দেবজ্যোতি মিশ্রর কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।’

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.