গেল বছর হজযাত্রীদের ভোগান্তির সীমা ছিল না। নতুন নিয়মে ভিসা প্রাপ্তিসহ নানাবিধ বিষয় জানা না থাকার কারণে অনিশ্চিত হয়ে পড়ে ছিল প্রায় পাঁচ হাজার জনের হজযাত্রা। ই-ভিসা ও অনলাইন নিবন্ধন সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা না থাকায় ফ্লাইট বিপর্যয় ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এবারই প্রথম ‘প্রাক-নিবন্ধনে’র মাধ্যমে হজে যাওয়ার আবেদন শুরু হয়েছে। প্রাক-নিবন্ধনের পর বাছাইকৃত হজইচ্ছুকদের নিবন্ধন করে পিলগ্রিম আইডি (চওউ) তৈরি হওয়ার পর ই-ভিসা সংগ্রহের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় হজযাত্রার প্রথম এবং প্রধান ধাপ। পুরো প্রক্রিয়াটিই অনলাইনভিত্তিক হওয়ায় অনেকের কাছেই জটিল মনে হচ্ছে।
প্রাক-নিবন্ধন কী
সৌদি ‘ই-হজ’ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য এ বছরই প্রথম শুরু হয়েছে হাজীদের প্রাক নিবন্ধন। চূড়ান্ত নিবন্ধনের আগে নির্ধারিত ফি, সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩০ হাজার এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় আরও ৭৫২ টাকা বেশি পরিশোধ করে ‘প্রাক-নিবন্ধন’ সনদ সংগ্রহ করতে হবে। নিজে অথবা বৈধ হজ এজেন্সির মাধ্যমে নির্ধারিত ব্যাংকের যে কোনো শাখায় প্রাক-নিবন্ধনের টাকা জমা দেয়া যাবে। আগামী ৩০ মে টাকা জমা দেয়ার শেষ দিন।
কোথায় করবেন
ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্র
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যালয়
পরিচালক, হজ অফিস, আশকোনা,
ঢাকা বৈধ হজ এজেন্সি
যা লাগবে
জাতীয় পরিচয়পত্র (১৮ বছরের নিচে হজ ইচ্ছুকদের জন্য জন্ম নিবন্ধন) এমআর পাসপোর্ট (বাধ্যতামূলক নয়)। পাসপোর্ট সাইজ রঙিন ছবি। মোবাইল নম্বর। ৩০ হাজার ৭৫২ টাকা
যেভাবে করবেন
ওপরে বর্ণিত নির্ধারিত কেন্দ্রে গিয়ে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফরম পূরণ করতে হবে। ফরম পূরণের পর ট্রাকিং নম্বরসহ প্রিন্ট করা কাগজ এবং নির্ধারিত ফি ব্যাংকে জমা দিতে হবে। ব্যাংক থেকে ‘প্রাক-নিবন্ধন সনদ’ এবং ‘প্রাক-নিবন্ধন’ সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে নিশ্চিতকরণ মেসেজ পাওয়া যাবে।
টাকা জমা নেবে যেসব ব্যাংক
অগ্রণী ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, জনতা ব্যাংক লিমিটেড, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক লিমিটেড, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডসহ সরকার নির্ধারিত মোট ২৪টি ব্যাংকের যে কোনো শাখায় প্রাক-নিবন্ধন এবং নিবন্ধনের টাকা জমা দেয়া যাবে।
প্রাক-নিবন্ধনের পর নিবন্ধন করতে হবে
সুষ্ঠুভাবে প্রাক নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর এ বছর হজ করার জন্য নির্বাচিত হজযাত্রীদের নিবন্ধন করতে হবে। সৌদি কোটা অনুযায়ী এ বছর বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ৭৫৮ জন হজ করতে পারবেন। বাকিদের অপেক্ষা করতে হবে আগামী বছরের জন্য। নির্বাচিত হজযাত্রীদের এসএমএসের মাধ্যমে জানানোর পর শুরু হবে নিবন্ধনের কাজ।
টাকা জমা দেয়া
প্রাক-নিবন্ধনের সময় এমআর পাসপোর্ট না দিলে নিবন্ধনের সময় অবশ্যই পাসপোর্ট দিতে হবে। যে প্যাকেজে হজ করতে চান, ওই প্যাকেজের টাকা নির্ধারিত ব্যাংকে পরিশোধ করে হজ নিবন্ধন সম্পন্ন করুন। এবার আপনার ‘পিলগ্রিম আইডি’ অর্থাৎ ‘নিবন্ধন নম্বর’ তৈরি হবে।
কোন প্যাকেজে কেমন খরচ
সরকারিভাবে দুটি প্যাকেজ খরচ যথাক্রমে ৩ লাখ ২৮ হাজার ৬০ টাকা এবং ৩ লাখ ৪ হাজার ৯০৩ টাকা (কোরাবনি ছাড়া)। কোরবানির জন্য অতিরিক্ত আরও ১০ হাজার টাকা গুনতে হবে উভয় প্যাকেজেই। বেসরকারিভাবে ৩ লাখ ৪ হাজার ৯০৩ টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন দামের প্যাকেজ রয়েছে।
জরুরি পরামর্শ
নির্ধারিত তারিখের (৩০ মে) মধ্যে প্রাক-নিবন্ধন না করলে হজ করা যাবে না। প্রাক-নিবন্ধনের পর নিবন্ধনের জন্য নির্বাচিত না হলে ভয় পাওয়া বা ঘাবড়ানোর কিছু নেই। ধৈর্যসহ আগামী বছরের জন্য অপেক্ষা করুন। প্রাক-নিবন্ধনের পর হজযাত্রা বাতিল করতে চাইলে ৩ হাজার টাকা প্রসেস ফি দিয়ে বাকি টাকা ফেরত পাবেন। ‘পিলগ্রিম আইডি’ হল আপনার ‘নিবন্ধন নম্বর’। এটি সংরক্ষণ করুন। ‘পিলগ্রিম আইডি’ ছাড়া হজ করা যাবে না। ‘পিলগ্রিম আইডি’ হস্তান্তরযোগ্য নয়। যে কোনো প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন- ০৯৬০২৬৬৭০৭ অথবা ভিজিট করুন-www.hajj.gov.bd
প্রতারণার ফাঁদ
ভুল তথ্য ভোগান্তি বাড়ায়। তাই ভোগান্তি লাঘবে সঠিক তথ্যসহ প্রাক-নিবন্ধন ও নিবন্ধন সম্পন্ন করুন। সরাসরি এজেন্সির সঙ্গে কথা বলুন। দালাল থেকে দূরে থাকুন। পছন্দনীয় প্যাকেজের নির্ধারিত খরচের কম টাকায় হজ করবেন না। প্রতারিতও হবেন না।
‘কম খরচে হজ করানো’ এজেন্সিগুলোর এক ধরনের টোপ। খরচ কম মানে- সেবা কম, ভোগান্তি ও কষ্ট বেশি। মহান আল্লাহ হজইচ্ছুকদের সঠিকভাবে ভোগান্তিহীন হজ এবং অন্যান্য কাজগুলো সম্পন্ন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।