ফাঁকা শাহজালাল বিমানবন্দরে করোনার শঙ্কা

দিনে ২৮টি এয়ারলাইন্সের প্রায় ১২০টি বেশি ফ্লাইট ওঠা-নামা করতো হযরতশাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। সেখান শনিবার (২১ মার্চ) ঢাকা থেকে ছেড়ে গেছে মাত্র ১৪টি ফ্লাইট, আর ঢাকায় এসেছে ১০টি ফ্লাইট। অন্যদিকে ফ্লাইট এলেও করোন আতঙ্কে যাত্রী কম। যাত্রী কমার কারণে বিমানবন্দর ছিল প্রায় ফাঁকা। যাত্রী কমায় বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের কর্মীদেরও কমেছে ব্যস্ততা। যদিও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন তারা।

শনিবার সরেজমিনে বিমানবন্দরে গিয়ে দেখা গেছে চিরচেনা ব্যস্ততা নেই। যেখানে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য জায়গা পাওয়া যেতো না, সেখানে পার্কিং জোন পুরো ফাঁকা। বিমানবন্দরে আসা গাড়িগুলোর যট সামলাতে ব্যস্ততা নেই আর্মড পুলিশ সদস্যদের। দর্শনার্থীদের ভিড় সামলাতে যেখানে ব্যস্ত থাকতে হতো পুলিশ সদস্যদের, সেখানে তারাও নীরবে দাঁড়িয়ে আছেন চেকপোস্টগুলোতে। বিমানবন্দরে দর্শনার্থীদের ভিড় না থাকায় টিকিট কাউন্টারগুলোও ফাঁকা। বিদেশগামী যাত্রী কমে যাওয়া টার্মিনালে নেই যাত্রীদের কোনও লাইন।

এদিকে করোনা পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাওয়ায় রবিবার (২২ মার্চ) থেকে ১০টি দেশের সঙ্গে ফ্লাইট বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। ফলে বিমান চলাচল আরও কমে যাবে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ওমান, সিঙ্গাপুর ও ভারত থেকে ফ্লাইট বাংলাদেশে অবতরণ করতে না পারার নোটিশ টু এয়ারম্যান (নোটাম) জারি করেছে। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণরোধে ২১ মার্চ রাত ১২টা হতে ৩১ মার্চ রাত ১২টা পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে।

তবে ইংল্যান্ড, চীন, হংকং, ব্যাংককের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ চালু থাকার কথা বলেছে বেবিচক। এসব গন্তব্য থেকে বাংলাদেশে যাত্রী আসা-যাওয়া অব্যহত রয়েছে। যদিও পরিস্থিতির বিবেচনা করে প্রয়োজনে এসব রুটের ফ্লাইটও বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সংস্থাটির চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনা করে ১০ দেশের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ বন্ধ করা হয়েছে। প্রয়োজনে বিমানবন্দর শাটডাউন করা হবে।

এদিকে বিদেশগামী ও বিদেশ থেকে আসা প্রত্যেক যাত্রীর ইমিগ্রেশন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয় ইমিগ্রেশন পুলিশকে। মাস্ক, গ্লাভস ব্যবহার করলেও যাত্রীদের সংস্পর্শে আসায় ইমিগ্রেশন পুলিশ সদস্যরা রয়েছেন করোনা সংক্রমণের শঙ্কায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ সদস্য বলেন, আমাদের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু বিদেশ থেকে আসা কোনও মানুষই ঝুঁকিমুক্ত নন। তাদের সঙ্গেই আমদের কাজ করতে হয়। ফলে মনে ভীতি কাজ করছে।

এদিকে প্রতিদিনের মতোই কাস্টম জোনে শুল্ক আদায় ও যাত্রীদের তল্লাশি করতে দেখা গেছে কর্মকর্তাদের। তাদের অনেকেই ব্যবহার করছেন মাস্ক ও গ্লাভস। তবে তাদের মধ্যেও রয়েছে করোনা আতঙ্ক। যদিও এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে সংবাদমাধ্যমে কোনও মন্তব্য করতে রাজি নন কর্মকর্তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, প্রতিদিনই নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। যারা বিদেশ থেকে আসছেন, তাদের মাধ্যমে এ ভাইরাস ছড়াচ্ছে। ফলে বিমানবন্দরে কাজ করার ঝুঁকিতো অবশ্যই আছে। কিন্তু আমাদের দায়িত্ব পালন করতেই হবে, চেষ্টা করি নিজেকে নিরাপদ রাখতে।

এদিকে বিমানবন্দরের পরিচ্ছন্নতার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন কর্মীরা। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা নিয়ম করেই বিমানবন্দরের মেঝে, টয়লেট পরিষ্কার করছেন। বিমানবন্দরের আর্বজনা পরিষ্কার করে নিয়ে যাচ্ছেন বাইরে। তবে তাদের অনেকের হাতেই দেখা যায়নি কোনও গ্লাভস, অনেকেরই মুখে ছিল না মাস্ক।

পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত একাধিক কর্মী বলেন, আমাদের তো কাজ করেই খেতে হবে। ভয় পেলে কী আর চলে, তবে পরিবারের লোকজন খুব আতঙ্কে আছে।
বিমানবন্দরের কর্মীদের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি প্রসঙ্গে বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান বলেন, বিমানবন্দরের কর্মীরা অবশ্যই ঝুঁকির বাইরে নন। কিন্তু মানুষের স্বার্থে আমাদের কাজ তো বন্ধ করা যাবে না। তবে আমরা প্রতিটি কর্মীর স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি এড়াতে বিমানবন্দরে পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা নিয়েছি। হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ হাত ধোয়ার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বিমানবন্দরে কোনও কর্মী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হননি।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.