সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ২৪ জনের নামে গুমের মামলা করা হয়েছে। একই মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ৩০ জনকে।
গতকাল বুধবার রাজধানীর শাহজাহানপুর থানায় এ মামলা করেছেন বিএনপির স্থানীয় নেতা সৈয়দ হাসান মাহমুদ।
এ থানার ওসি খায়রুল ইসলাম বলেন, মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাসহ ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী হাসান মাহমুদ মামলায় তাকে হেফাজতে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন। এতে দীর্ঘমেয়াদে অসুস্থ হওয়া ও অঙ্গহানি ঘটেছে বলে দাবি তার।
ওসি বলেন, ২০২০ সালের দিকে ওই ব্যক্তিকে দুই দফায় গুম করা হয় বলে তার অভিযোগ। এজাহারে হাসান মাহমুদ ওই সময়ে নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ নূর হোসেনকে সংসদ সদস্য মশিউর রহমান রাঙা মাদকাসক্ত বলে আখ্যা দিলে তিনি এর বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলেন। এরপরই তার জীবনে নির্যাতন নেমে আসে।
মামলায় ঘটনার বিবরণের কথা তুলে ধরে পুলিশ কর্মকর্তা খায়রুল বলেন, প্রথমে তাকে শাহজাহানপুর থানা এলাকা থেকে গুম করা হয়। তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হেফাজতে নিয়ে ইলেকট্রিক শক, যৌনাঙ্গে ইট বেঁধে রাখাসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন করেন। নির্যাতনের ফলে স্ট্রোক হওয়ার পর একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় চলে গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ছাত্র-জনতার গণ আন্দোলনে ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গুম, হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে একের পর এক মামলা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এ মামলার খবর এল।
ওসি বলেন, হাসান মাহমুদ ব্যবসা করেন। তিনি বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত। একবার দলের পক্ষ থেকে ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচনের জন্য মনোনয়নও পেয়েছিলেন।