মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে। নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং আকাশসীমা ব্যবহারে অনিশ্চয়তার কারণে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (ডিএক্সবি) থেকে একাধিক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স তাদের ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। এতে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই বিমানবন্দর দিয়ে ভ্রমণকারী হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।
এভিয়েশন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশের বিমান সংস্থাগুলো তাদের ফ্লাইট পরিচালনার কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপভিত্তিক এয়ারলাইন্সগুলো সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ইতোমধ্যে দুবাই, তেল আবিব, বাহরাইন ও আম্মান রুটে আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ফ্লাইট স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। একইভাবে লুফথানসা গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত লুফথানসা, সুইস এবং ইটা এয়ারওয়েজ আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুবাইয়ের সব ফ্লাইট বন্ধ রাখবে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে তাদের স্থগিতাদেশ ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বহাল থাকবে।
এয়ার ফ্রান্স দুবাই ও বৈরুত রুটে ফ্লাইট স্থগিত করেছে। কেএলএম আগামী ২ আগস্ট পর্যন্ত দুবাই রুটে তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখবে। এয়ার কানাডাও ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুবাই ও তেল আবিবগামী সব ফ্লাইট বাতিল করেছে। অন্যদিকে ক্যাথে প্যাসিফিক ও এজিয়ান এয়ারলাইন্স ৩১ আগস্ট পর্যন্ত দুবাই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সও তাদের সিঙ্গাপুর-দুবাই রুটে ফ্লাইট স্থগিতাদেশ ২ আগস্ট পর্যন্ত বাড়িয়েছে। উইজ এয়ার ইউরোপ থেকে দুবাই ও আবুধাবিগামী ফ্লাইট সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত বন্ধ রাখবে। ইউরোউইংসও ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ফ্লাইট স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে ভার্জিন আটলান্টিক চলতি মৌসুমে নির্ধারিত সময়ের আগেই তাদের লন্ডন-দুবাই রুটের কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে।
তবে সব এয়ারলাইন্স ফ্লাইট বন্ধ করেনি। কিছু প্রতিষ্ঠান বিকল্প রুট ব্যবহার করে ফ্লাইট পরিচালনার চেষ্টা করছে। উদাহরণ হিসেবে এয়ার আস্তানা ২০ জুন থেকে আলমাটি-দুবাই এবং ১০ জুলাই থেকে আস্তানা-দুবাই রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দিয়েছে। তারা ইরানের আকাশসীমা এড়িয়ে পাকিস্তানের উপর দিয়ে বিকল্প রুট ব্যবহার করবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকতে পারে। তাই যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপ থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রিফান্ড, ভ্রমণ ভাউচার অথবা বিনামূল্যে টিকিট পরিবর্তনের সুযোগ সম্পর্কে আগেভাগে জেনে নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।