মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি, থানায় জিডি

মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি, থানায় জিডি

মোংলা প্রতিনিধি
মোংলা বন্দরে সক্রিয় একটি কথিত মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিজের ও সাক্ষাৎকার দেওয়া ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে মোংলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ওই সাংবাদিক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্র সক্রিয় রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কথিত রেজা মাসুদ ওরফে ‘মাসুদ বাহিনী’ ওই চক্রের নিয়ন্ত্রণ নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, নিজেকে সরকারদলীয় এক প্রভাবশালী নেতার আত্মীয় পরিচয় দিয়ে তিনি ও তার সহযোগীরা বন্দর নগরীজুড়ে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বেপরোয়া আচরণ ও মাদক সংশ্লিষ্ট নানা অভিযোগের কারণে অভিযুক্ত মাসুদকে ওই রাজনৈতিক নেতা প্রকাশ্যে তেমন পরিচয় দেন না।

গত ২৬ জুন ২০২৬ তারিখে “মোংলা বন্দরের মাদক ব্যবসার সিন্ডিকেট” শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তথ্য-উপাত্ত ও আলোকচিত্রসহ একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে কথিত সিন্ডিকেট প্রধান রেজা মাসুদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা পরিচালনার নানা অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই অভিযুক্ত চক্রটি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিবেদককে খুঁজতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় দলবল নিয়ে তৎপরতা চালানো হয়। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক মেসেঞ্জারে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবেদনে বক্তব্য দেওয়া কয়েকজন ভুক্তভোগীর বাড়িতেও লোক পাঠানো হয়। তাদের এলাকা ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে মোংলা প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি, দ্য বাংলাদেশ নিউজ এবং বিডিনিউজ ডটকমের মোংলা বন্দর প্রতিনিধি দিদার উল আলম বিজয় বলেন, “একটি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে আমি ও প্রতিবেদনে কথা বলা কয়েকজন ব্যক্তি ধারাবাহিকভাবে হুমকির মুখে রয়েছি। নিরাপত্তার স্বার্থে আমি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি।”মোংলা থানায় করা সাধারণ ডায়েরির নম্বর ৮৪, তারিখ ০২ জুন ২০২৬।

সাংবাদিক মহল ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হুমকিদাতাদের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

Comments (0)
Add Comment