বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেখলেই কড়া তল্লাশি কায়রো বিমানবন্দরে

মিশরের কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশি যাত্রীদের ওপর বাড়তি নিরাপত্তা তল্লাশি ও দীর্ঘ যাচাই-বাছাইয়ের অভিযোগ উঠেছে।

মিশরের কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশি যাত্রীদের ওপর বাড়তি নিরাপত্তা তল্লাশি ও দীর্ঘ যাচাই-বাছাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘কায়রো টু ঢাকা ফ্রি টিকিট’, ‘১০০ শতাংশ রিস্কমুক্ত’ কিংবা ‘ফ্রেশ মালামাল’ বহনের প্রলোভনে পড়ে চরম ভোগান্তির মুখে পড়ছেন।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিষয়টি এখন আর কয়েকজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত দুর্ভোগে সীমাবদ্ধ নেই। বরং এর প্রভাব পড়ছে মিশরে বসবাসরত পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটির ওপর। কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের প্রতি বাড়তি নজরদারি, দীর্ঘ সময় ধরে নিরাপত্তা তল্লাশি এবং কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

সম্প্রতি কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী একটি ফ্লাইটে ভ্রমণের সময় প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে কয়েক ঘণ্টা অতিরিক্ত নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। অনেককে দুই থেকে তিনবার পর্যন্ত লাগেজসহ ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি শুরুতে কয়েকজন কর্মকর্তার পক্ষ থেকে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের লাগেজ গ্রহণে অনীহাও দেখা যায়। পরে দীর্ঘ অনুরোধের পর তাদের একসঙ্গে নির্ধারিত একটি গেট দিয়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।

এ সময় অনেক যাত্রী ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যবহারের জন্য আনা বিভিন্ন পণ্য বিমানবন্দরেই রেখে যেতে বাধ্য হন। যদিও অনেকের ৪৬ কেজি পর্যন্ত চেক-ইন লাগেজ বহনের সুযোগ ছিল, তবুও কঠোর তল্লাশির কারণে কেউ কেউ মাত্র ৭ থেকে ৮ কেজির হ্যান্ড লাগেজ নিয়ে দেশে ফিরেছেন। আবার কয়েকজনের ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ফ্লাইট মিস হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়।

জানা গেছে, এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হলো কিছু যাত্রীর লাগেজে ব্যক্তিগত ব্যবহারের সীমা অতিক্রম করে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ কসমেটিকস, শ্যাম্পু, সাবান, ওষুধ ও অন্যান্য পণ্য বহন করা। কোথাও একটি লাগেজে শতাধিক নিভিয়া ক্রিম, আবার কোথাও পুরো লাগেজজুড়ে বিভিন্ন প্রসাধনী ও ভোগ্যপণ্য পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন নীতিমালা অনুযায়ী ব্যক্তিগত লাগেজকে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা নিয়মবহির্ভূত।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখনো প্রকাশ্যে ‘কায়রো টু ঢাকা ১০০ শতাংশ রিস্কমুক্ত’ মালামাল বহনের বিজ্ঞাপন দেখা যাচ্ছে। এসব বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অতিরিক্ত আয়ের লোভ দেখিয়ে অনেক শিক্ষার্থীকে মালামাল বহনে উৎসাহিত করা হচ্ছে। কিন্তু বিমানবন্দরে মালামাল জব্দ হলে বা বহনের অনুমতি না মিললে ব্যবসায়ীদের তেমন ক্ষতি না হলেও অপমান, আর্থিক ক্ষতি ও মানসিক চাপের শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরাই।

আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতে, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেখলেই অনেক নিরাপত্তাকর্মী সন্দেহের চোখে তাকান। ফলে বৈধভাবে ভ্রমণকারী সাধারণ যাত্রী, পরিবার নিয়ে দেশে ফেরা প্রবাসী কিংবা পর্যটকরাও অযথা দীর্ঘ তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সাময়িক আর্থিক লাভের আশায় অবৈধভাবে পণ্য বহনের প্রবণতা বন্ধ না হলে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই ব্যক্তিগত লাভের চেয়ে দেশের সুনাম রক্ষায় সচেতন হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও এ ধরনের প্রলোভন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

Comments (0)
Add Comment