শেরওয়ানির জন্য নয়, যান্ত্রিক ত্রুটিতে ফিরল ফ্লাইট

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী এয়ার অ্যাস্ট্রার একটি ফ্লাইটকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী এয়ার অ্যাস্ট্রার একটি ফ্লাইটকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ ওঠে, এক যাত্রীর বাসায় শেরওয়ানি ফেলে আসার কারণে ট্যাক্সিওয়ে থেকে বিমানটি আবার পার্কিং বেতে ফিরে যায়। তবে এয়ার অ্যাস্ট্রা দাবি করেছে, ফ্লাইটটি ফিরিয়ে আনার মূল কারণ ছিল উড়োজাহাজের যান্ত্রিক ত্রুটি, আর যাত্রীর ঘটনাটি ছিল কেবল কাকতালীয়।

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী একটি ফ্লাইটে। যাত্রীদের নিয়ে বিমানটি যখন পার্কিং বে ছেড়ে ট্যাক্সিওয়ে দিয়ে রানওয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখন এক যাত্রীর মনে পড়ে তিনি বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় শেরওয়ানি বাসায় ফেলে এসেছেন। এরপর তিনি কেবিন ক্রুদের কাছে বিমান থামিয়ে নামার অনুরোধ জানান। এ নিয়ে কেবিন ক্রুদের সঙ্গে তার কিছুক্ষণ বাকবিতণ্ডাও হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই যাত্রী নিজেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন ফার্স্ট অফিসার হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন।

ফ্লাইটে থাকা কয়েকজন যাত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, কিছুক্ষণ পর পাইলট ঘোষণা দেন যে ওই যাত্রীকে নামানোর জন্য বিমানটি আবার পার্কিং বেতে ফিরে যাচ্ছে। এই ঘোষণা শোনার পর যাত্রীদের মধ্যে বিস্ময় ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তবে এয়ার অ্যাস্ট্রা বলছে, বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

এয়ার অ্যাস্ট্রার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আসিফ জানান, উড়োজাহাজটির এয়ার কন্ডিশনিং ইউনিটে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। প্রথমে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে বিমানটি যাত্রা শুরু করে। কিন্তু রানওয়েতে প্রবেশের আগে ককপিটে আবারও তাপমাত্রা অস্বাভাবিক মাত্রায় বেড়ে যাওয়ার সংকেত আসে। নিরাপত্তার স্বার্থে তখন পাইলট উড়োজাহাজটি আর পরিচালনা না করার সিদ্ধান্ত নেন এবং টাওয়ারের অনুমতি নিয়ে বিমানটিকে পার্কিং বেতে ফিরিয়ে আনেন।

তার দাবি, যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়টি না জানিয়ে পাইলট যাত্রীদের উদ্দেশে কেবল ওই যাত্রীকে নামানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন। এই অসম্পূর্ণ ঘোষণার কারণেই ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয় এবং অনেকেই মনে করেন শেরওয়ানির জন্যই বিমান ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

এয়ার অ্যাস্ট্রা আরও জানায়, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সংশ্লিষ্ট উড়োজাহাজটি আর ব্যবহার করা হয়নি। পরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজের সহায়তায় যাত্রীদের চট্টগ্রামে পাঠানো হয়। কয়েক ঘণ্টা পর ওই যাত্রীও প্রয়োজনীয় পোশাক নিয়ে বিমানবন্দরে ফিরে আসেন এবং বিকল্প ফ্লাইটে যাত্রা করেন।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল নীতিমালা অনুযায়ী শুধুমাত্র জরুরি চিকিৎসা, নিরাপত্তা ঝুঁকি, যান্ত্রিক ত্রুটি বা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের নির্দেশে ট্যাক্সি করা বিমান ফিরিয়ে আনা যায়। কোনো যাত্রীর ব্যক্তিগত অনুরোধে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হলেও এয়ার অ্যাস্ট্রা বলছে, তাদের কাছে যান্ত্রিক ত্রুটির প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট নথি রয়েছে এবং প্রয়োজনে তা সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, পুরো ঘটনাটি মূলত একটি ভুল বোঝাবুঝির ফল, আর নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

Comments (0)
Add Comment