মাদক উদ্ধারের পর থাইল্যান্ডে কঠোর নিরাপত্তা

দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (CAAT) ফ্লাইট ক্রুদের জন্য কঠোর নতুন নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করেছে।

থাইল্যান্ডে এক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের লাগেজ থেকে ১.৮ কেজি হেরোইন উদ্ধারের ঘটনার পর দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (CAAT) ফ্লাইট ক্রুদের জন্য কঠোর নতুন নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ফ্লাইট ক্রু অন্যের দেওয়া কোনো প্যাকেট, ব্যাগ বা ব্যক্তিগত জিনিস গ্রহণ, বহন বা অন্য কারও কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন না।

থাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য বিমান নিরাপত্তা জোরদার করা এবং আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিশ্চিত করা। সিএএটির মহাপরিচালক এয়ার চিফ মার্শাল মানাত চাভানাপ্রায়ুন বলেন, এখন থেকে সব এয়ারলাইনসকে তাদের ক্রু সদস্যদের বহন করা সব ধরনের ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের ওপর কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। কোনো কর্মী নতুন নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনস তাদের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে, পাশাপাশি প্রয়োজন হলে সিএএটিও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ঘটনার সূত্রপাত ২৫ জুন, যখন অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিমানবন্দরে থাই এয়ারওয়েজের ২৬ বছর বয়সী এক নারী ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে গ্রেপ্তার করা হয়। অস্ট্রেলিয়ান বর্ডার ফোর্স তার লাগেজ তল্লাশি করে ১২টি কাপড়ের ব্যাগের মধ্যে দুটিতে লুকিয়ে রাখা ১.৮ কেজি হেরোইন উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ ৪৭ হাজার মার্কিন ডলার

তদন্তে ওই ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট জানান, তিনি ৮ হাজার ৮০০ থাই বাত পারিশ্রমিকের বিনিময়ে ব্যাগগুলো অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যেতে রাজি হয়েছিলেন। এরপরই অস্ট্রেলিয়ান পুলিশ তাকে মাদক পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে। দোষী প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ ২৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। মামলার প্রথম শুনানি আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

৪ জুলাই থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার তদন্তকারীরা জানান, তারা ইতোমধ্যে ব্যাগ বহনের প্রস্তাব দেওয়া ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছেন। তদন্তে জানা গেছে, ওই ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট বিদেশে পণ্য বহনের একটি অনলাইন গ্রুপে পোস্ট করেছিলেন। পরে ‘রোজ’ নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং তিনি ব্যাগগুলো বহনে সম্মতি দেন।

বর্তমানে মুছে ফেলা ওই ফেসবুক অ্যাকাউন্টের প্রকৃত মালিককে শনাক্ত করতে থাই কর্তৃপক্ষ মেটা-র সহযোগিতা চাইছে। একই সঙ্গে থাইল্যান্ডে অবস্থিত মার্কিন ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (DEA)-এর কার্যালয়ও তদন্তে সহায়তা করছে। এছাড়া যে চালক পার্সেলটি ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের বাসায় পৌঁছে দিয়েছিলেন, তাকেও খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীরা নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করছেন।

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল এ ঘটনাকে “চরম অবিবেচনাপ্রসূত” বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার বিমানবন্দরগুলোতে অত্যন্ত উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও মাদক শনাক্তকারী কুকুর ব্যবহার করা হয়। তাই এমন একটি পরিকল্পনা সফল হবে—এমন ধারণা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তার মতে, সামান্য অর্থের লোভে এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িয়ে পড়ার পরিণতি দীর্ঘদিন ভোগ করতে হবে।

এই ঘটনার পর থাইল্যান্ডের বিমান চলাচল খাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ ঠেকাতে সব এয়ারলাইনসকে বাড়তি সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Comments (0)
Add Comment