রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় ভবঘুরে, ভিক্ষুক, মাদকাসক্ত ও অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে বিমানবন্দর থানা পুলিশ। অভিযানে মোট ৮২ জনকে আটক করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং বিমানবন্দর এলাকায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
শনিবার (৪ জুলাই) ভোর থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী। তিনি জানান, বিমানবন্দর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভবঘুরে, ভিক্ষুক ও মাদকাসক্তদের আনাগোনার কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ জানায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গোলচত্বর, বিআরটিএ স্টেশন, বিমানবন্দর রেলস্টেশন, পুলিশ বক্সের আশপাশ, বিমানবন্দরের প্রধান প্রবেশপথ, ভিআইপি রোড এবং সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই করা হয় এবং যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়, তাদের আটক করা হয়।
অভিযানে আটক ৮২ জনের মধ্যে ৫৮ জন মাদকাসক্ত পথশিশু রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও ২৪ জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তাদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হচ্ছে।
বিমানবন্দর থানা সূত্রে জানানো হয়েছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার। তাই এই এলাকায় কোনো অবস্থাতেই ভবঘুরে, ভিক্ষুক, মাদকাসক্ত বা অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিদের অবস্থান করতে দেওয়া হবে না। বিমানবন্দর এলাকাকে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও যাত্রীবান্ধব রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।
এদিকে, আটক হওয়া পথশিশুদের ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করা হচ্ছে। শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ‘শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা’র তত্ত্বাবধানে শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ও পুনর্বাসনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, শিশুদের অপরাধী হিসেবে নয়, বরং সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, বর্তমানে বিমানবন্দর এলাকায় টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিমানবন্দর এলাকাকে অপরাধমুক্ত রাখতে নিয়মিত নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।