শনিবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে সোহাগী জাহান তনু হত্যার বিচারের দাবিতে গণজাগরণ মঞ্চ আয়োজিত প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ইমরান বলেন, গত পাঁচদিন আগে আমাদের বোন সোহাগী জাহান তনুকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাই আমরা ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গণজাগরণ মঞ্চ আয়োজিত গত কয়েক বছরের ধারাবাহিক কনসার্ট বাদ দিয়ে আজ তনুর হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করছি।
তনুর হত্যার ঘটনায় ব্যাপক প্রতিবাদের মধ্যে মামলাটি গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে। বাংলাদেশি গণমাধ্যমগুলোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও জায়গা হয়েছে তনুর বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের খবর।
ইমরান এইচ সরকার বলেন, সেনাবাহিনীকে প্রমাণ করতে হবে যে তারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত না, এটি বাইরের কেউ ঘটিয়েছে। যদি একজন সেনা সদস্যও এর সাথে জড়িত হয় তাহলে তাকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। এটা তাদের দায়িত্ব। সেনাবাহিনী পুলিশের তদন্ত কাজে সহযোগিতা করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে, আমরা এটাকে সাধুবাদ জানায়।
রোববার সকাল ৮টায় কুমিল্লা অভিমুখে রোডমার্চ করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, আগামীকাল আমরা শাহবাগ থেকে কুমিল্লা গিয়ে সেখানকার মানুষের সঙ্গে তনু হত্যার দাবিতে সংহতি প্রকাশ করবো।
২০ মার্চ কুমিল্লার ময়নামতি সেনানিবাসের অলিপুর এলাকায় একটি কালভার্টের পাশের জঙ্গল থেকে সোহাগী জাহান তনুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ হত্যার ঘটনায় কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন।
কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহকারী ইয়ার হোসেনের মেয়ে তনু। তার বাড়ি মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে। তনু একজন সংস্কৃতিকর্মী ছিল। নাটক, নৃত্য ও আবৃত্তি এই তিন মাধ্যমেই ছিল তার অল্প বিস্তর যাতায়াত। বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ ও গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের অন্তর্ভুক্ত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের সে ছিল একজন নিয়মিত সদস্য ও কলেজের ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। অসচ্ছল পরিবারে পিতা মাতার বোঝা না হয়ে ছাত্রছাত্রী পড়িয়ে নিজের খরচ চালাত প্রাণবন্ত উদ্যমী সোহাগী জাহান তনু।