শাহজালালে ইবোলা ভাইরাস শনাক্তে থার্মাল স্ক্র্যানার চালু

ebola-virus-scanerএভিয়েশন নিউজ: ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত করার লক্ষ্যে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্যানার স্থাপন করা হয়েছে। বিদেশ থেকে আসা সকল যাত্রীকে এখন এই স্ক্যানার অতিক্রম করে আসতে হবে। বুধবার বিকেলে বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্যানার উদ্বোধন করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, দেশ এখন শতভাগ ইবোলা ঝুঁকিমুক্ত।

আপাতত সিঙ্গাপুর থেকে সাতটি থার্মাল স্ক্যানার আনা হয়েছে। এগুলো শাহজালাল ছাড়াও দেশের অন্যান্য বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে স্থাপন করা হবে। বিশ্বব্যাংক ও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ সব থার্মাল স্ক্যানার সংগ্রহ করা হয়েছে। জরুরীভিত্তিতে থার্মাল স্ক্যানার স্থাপনের আশ্বাস দেয়ার এক মাসের মধ্যে এগুলো বসানো অবশ্যই স্বাস্থ্য খাতের একটা মাইল ফলক।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জমানা কামাল সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান এয়ারভাইস মার্শাল সানাউল হক, স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ মনুজরুল ইসলাম , বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি বুশরা বিনতে রহমানসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আফ্রিকার কয়েকটি দেশে ইবোলা ভাইরাসের ব্যাপক বিস্তৃতি থাকলেও বাংলাদেশ ছিল কম ঝুকিতে। তবুও হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সকল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দরে থার্মাল স্ক্যানার স্থাপনের পর গোটা দেশ এখন ইবোলা ঝুকিমুক্ত।

এই ভাইরাস প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় আরও যা করণীয় সবই করা হবে। শুধু স্বাস্থ্য খাত নয়, জাতির যে কোন দুর্যোগ বা সঙ্কটে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। আজকের স্ক্যানার বসানো তারই প্রমাণ। ইবোলা নিয়ে যখন আফ্রিকাসহ দুনিয়াব্যাপী আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, তখন বাংলাদেশ সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কেনা হয়েছে এ সব স্ক্যানার। এগুলো আপাতত চলবে। যদিও আফ্রিকার কয়েকটি দেশকে ইবোলা মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবুও ঢাকাসহ অন্যান্য বন্দরে এ এ সব মেশিন সর্বক্ষণিক চালু থাকবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক দীন মোঃ নুরুল হক সাংবাদিকদের বলেন, এ সব থার্মাল স্ক্যানারের কারিগরি সহায়তা দেবে সরবরাহকারী কোম্পানির বিশেষজ্ঞরা। তারা আমাদের স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রাথমিক ভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর চলে যাবেন।

নিচতলায় ইমিগ্রেশনের পশ্বিম পাশে আগমনী যাত্রীদের সিঁড়ির কাছে স্থাপন করা হয়েছে একটি স্ক্যানার। সব যাত্রীদেরই এ স্ক্যানার বসানো গেট অতিক্রম করে আসতে হবে। প্রত্যেক যাত্রীকেই গেটের পার হওয়ার সময় হাত উঠাতে হবে। যাদের শরীরে তাপমাত্রা থাকবে স্ক্যানারে তাদের হাত লাল হয়ে ফুঠে উঠবে।

লাল হাত পাওয়া গেলেই তাকে তাৎক্ষনিক নেয়া হবে পরীক্ষারগারে। সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষা ও জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হবে। আগামী দু‘একদিনের মধ্যে শাহজালালে আরও দুটি স্ক্যানার বাসানো হবে যাতে বিদেশ থেকে আগত সকল যাত্রীকে স্ক্যান করা সহজ হয়।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.