বেবিচক কর্মকর্তা শরিফুলকে ঘিরে একাধিক সংস্থার অনুসন্ধান

মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে অভিযোগ

মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে অভিযোগ: বেবিচক কর্মকর্তাকে ঘিরে একাধিক সংস্থার অনুসন্ধান

বিশেষ প্রতিনিধি : ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)–এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) মো. শরিফুল ইসলামকে ঘিরে একাধিক পর্যায়ে অনুসন্ধান চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বেবিচকের অভ্যন্তরীণ তদন্তের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিষয়টি পর্যালোচনা করছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, মো. শরিফুল ইসলাম মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরিতে যোগদান করেছিলেন। ২০০১ সালের ২৪ জানুয়ারি তিনি বেবিচকে যোগ দেন এবং সে সময় তার পিতা মো. মোশাররফ হোসেনের মুক্তিযোদ্ধা সনদ সংযুক্ত করা হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই সনদের বৈধতা নিয়ে পরবর্তীতে প্রশ্ন ওঠে এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, চাকরির সময় জমা দেওয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদের তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রাথমিক যাচাইয়ে কিছু অসঙ্গতির বিষয় নজরে এসেছে বলে সূত্রের দাবি।

এছাড়া গোপালগঞ্জ জেলার গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় মোশাররফ হোসেনের নাম খুঁজে পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব তথ্যের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

অভিযোগকারীদের দাবি, ১৯৯৯ সালের ২৬ অক্টোবর ইস্যুকৃত একটি মুক্তিযোদ্ধা সনদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আহাদ চৌধুরীর স্বাক্ষর রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা সনদটির সত্যতা ও ইস্যু প্রক্রিয়া যাচাই করছেন বলে জানা গেছে।

বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) অতিরিক্ত সচিব এস এম লাবলুর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে চাকরি পাওয়ার বিষয় ছাড়াও পদোন্নতি সংক্রান্ত কিছু অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, পদোন্নতির বিভিন্ন ধাপ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে অনিয়ম হয়েছে কি না, সে বিষয়গুলোও যাচাই করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি।
যোগাযোগ করা হলে মো. শরিফুল ইসলাম এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। সব তথ্য-প্রমাণ যাচাই শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে এবং সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
//

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.

EN