টানা দ্বিতীয়বার ‘এক্সেপশনাল ওয়ার্কপ্লেস’ পুরস্কার পেল দুবাই এয়ারপোর্টস

দুবাই এয়ারপোর্টস টানা দ্বিতীয়বারের মতো আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্যালাপের মর্যাদাপূর্ণ

দুবাই এয়ারপোর্টস টানা দ্বিতীয়বারের মতো আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্যালাপের মর্যাদাপূর্ণ “এক্সেপশনাল ওয়ার্কপ্লেস ২০২৬” পুরস্কার অর্জন করেছে। কর্মপরিবেশ, কর্মীদের সন্তুষ্টি এবং দক্ষতা উন্নয়নে অসাধারণ সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মাননা দেওয়া হয়। বিশ্বের অন্যতম কঠোর ও নির্ভরযোগ্য কর্মপরিবেশ মূল্যায়ন হিসেবে পরিচিত এই পুরস্কার দুবাই এয়ারপোর্টসকে আবারও বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ সারিতে জায়গা করে দিয়েছে।

গ্যালাপের তথ্য অনুযায়ী, এবারের মূল্যায়নে দুবাই এয়ারপোর্টস ৭৭তম পার্সেন্টাইলে অবস্থান করেছে এবং কর্মীদের মধ্যে “জব হারমনি” বা কর্মস্থল সন্তুষ্টির হার দাঁড়িয়েছে ৭৪ শতাংশে। গত বছর এই হার ছিল ৭১ শতাংশ। বিশ্বের ২০০টির বেশি দেশের ৬ হাজারেরও বেশি প্রতিষ্ঠানের ২ কোটি ৭৬ লাখ অংশগ্রহণকারীর তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এই মূল্যায়ন করা হয়েছে।

দুবাই এয়ারপোর্টস জানিয়েছে, এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে কর্মীদের কল্যাণ, প্রশিক্ষণ ও ভবিষ্যৎ দক্ষতা উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। এমন এক সময় এই পুরস্কার এলো, যখন দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইতিহাসের সর্বোচ্চ বার্ষিক যাত্রী পরিবহন রেকর্ড গড়েছে। একই সঙ্গে টানা দ্বাদশবারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।

প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিকে তাদের প্রশিক্ষণ ও মানবসম্পদ উন্নয়ন কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ব্যবহার করছে। মাইক্রোলার্নিং প্ল্যাটফর্ম, ভার্চুয়াল এআই ট্রেইনার এবং উন্নত এআই-ভিত্তিক প্রশিক্ষণ কনটেন্টের মাধ্যমে কর্মীদের দ্রুত দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

এছাড়া মাইক্রোসফট কপাইলট স্টুডিও প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এআই এজেন্ট চালু করেছে দুবাই এয়ারপোর্টস। এর পাশাপাশি “নেগোশিয়েশন কোচ” এবং বাস্তব বিমানবন্দর পরিচালনাগত জটিলতা অনুকরণ করে তৈরি সিমুলেশনভিত্তিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। এসব প্রযুক্তি কর্মীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমস্যা সমাধান এবং অপারেশনাল দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

দুবাই এয়ারপোর্টসের মানবসম্পদ কৌশলের মূল ভিত্তি হলো জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি পেশাগত অগ্রগতির সুযোগ তৈরি করা। স্থানীয় আমিরাতি কর্মী থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক প্রতিভাবান কর্মীদের জন্যও স্পষ্ট ক্যারিয়ার উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বব্যাপী বিমান খাত যখন কর্মী সংকট, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও বাড়তি চাপ মোকাবিলা করছে, তখন দুবাই এয়ারপোর্টসের এই অর্জন দেখাচ্ছে যে কর্মীদের সন্তুষ্টি ও দক্ষতায় বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করে। বিশেষ করে দুবাই ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল – আল মাকতুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ প্রকল্পের সময় এমন মানবসম্পদ উন্নয়ন কৌশল ভবিষ্যতের জন্য বড় প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও কর্মীদের কল্যাণকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার কারণেই দুবাই এয়ারপোর্টস এখন শুধু বিশ্বের ব্যস্ততম বিমানবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান নয়, বরং কর্মপরিবেশের ক্ষেত্রেও একটি বৈশ্বিক মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.