বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা বাড়ল ১৮৫ শতাংশ
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের প্রায় ছয় হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা অনুমোদন
রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের প্রায় ছয় হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা অনুমোদন করেছে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ। দীর্ঘদিন ধরে অপরিবর্তিত থাকা বিভিন্ন ভাতা ও আনুষঙ্গিক সুবিধা এক ধাক্কায় ১৮৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি খাদ্য ভর্তুকি দ্বিগুণ করা, অস্থায়ী কর্মীদের দৈনিক মজুরি বাড়ানো এবং ভবিষ্যতে পে-স্কেল সুবিধা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিমানের বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেনের স্বাক্ষরে ২ জুন একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, গত ২০ মে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাতা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সুবিধা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, বাংলাদেশ ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টার (বিএফসিসি) এবং বিমান পোলট্রি কমপ্লেক্সের (বিপিসি) কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য হবে।
পর্ষদের কার্যবিবরণী অনুযায়ী, বিমান ও বিএফসিসিতে কর্মরত পে ডিভিশন-৬ এবং এর ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এভিয়েশন, ট্রেড, ওয়াশিং বা কিট, এক্সিকিউটিভ এবং এন্টারটেইনমেন্ট ভাতা বিদ্যমান হারের তুলনায় ১৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। একইভাবে পে ডিভিশন-১ থেকে ৫ পর্যন্ত কর্মচারীদের এভিয়েশন, ট্রেড ও ওয়াশিং-কিট ভাতাও ২০০৫ সালে নির্ধারিত হারের ওপর ১৮৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
এ ছাড়া বর্তমানে উপস্থিতির ভিত্তিতে প্রতিদিন ২০০ টাকা খাদ্য ভর্তুকি ভাতা পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এই সুবিধা দ্বিগুণ করে ৪০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন ভাতা কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মীরা বকেয়া সুবিধাও পাবেন।
পর্ষদ আরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে বিপিসিতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্যও বিমান ও বিএফসিসির অনুরূপ ভাতা কাঠামো চালু করা হবে। একই সঙ্গে বিমান, বিএফসিসি এবং বিপিসিতে কর্মরত সব অস্থায়ী কর্মচারীর দৈনিক মজুরি অতিরিক্ত ২০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অস্থায়ী জনবল মিলিয়ে প্রায় ছয় হাজার ব্যক্তি এই সুবিধার আওতায় আসবেন। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কর্মী সংগঠন ভাতা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছিল। সেই দাবির প্রেক্ষিতে গঠিত বিশেষ পর্ষদ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, কর্মীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং দক্ষ জনবল ধরে রাখার জন্য ভাতা বৃদ্ধি ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও এর ফলে বিমানের ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বিশেষ করে যখন প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম প্রধান আয়ের উৎস গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং কার্যক্রম বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে, তখন আর্থিক চাপ মোকাবিলায় দক্ষ ব্যবস্থাপনা, সেবার মান উন্নয়ন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
