বাগডোগরা বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ চলাচল দ্বিগুণের বেশি
উত্তরবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর হিসেবে দ্রুত বিকশিত হচ্ছে বাগডোগরা বিমানবন্দর।
উত্তরবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর হিসেবে দ্রুত বিকশিত হচ্ছে বাগডোগরা বিমানবন্দর। বিমান চলাচল ও যাত্রীসংখ্যায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়নও নতুন মাত্রা পেয়েছে। ‘যাত্রী সুবিধা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য তুলে ধরে।
কেন্দ্রীয় সরকারের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে ১৫ জুন বাগডোগরা বিমানবন্দরে ‘যাত্রী সুবিধা দিবস’ পালন করা হয়। এ উপলক্ষে যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, সেবা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনায় যাত্রীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এক সংবাদ সম্মেলনে বাগডোগরা বিমানবন্দরের পরিচালক নাভেদ নিজাম জানান, উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত ‘চিকেন নেক’ অঞ্চলে অবস্থিত এই বিমানবন্দর এখন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিমান পরিবহন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। পর্যটন, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এর ভূমিকা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি বলেন, ২০১৪ সালে যেখানে মাসিক বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার সংখ্যা ছিল প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০টি, বর্তমানে তা বেড়ে ৮৬০টিরও বেশি হয়েছে। একইভাবে যাত্রীসংখ্যাতেও বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ২০১৪ সালে যেখানে বার্ষিক যাত্রীসংখ্যা ছিল প্রায় ১০ লাখ ৬০ হাজার, বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৩৬ লাখ ৫০ হাজারে পৌঁছেছে। এই পরিসংখ্যান বাগডোগরা বিমানবন্দরের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব ও জনপ্রিয়তার প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, দার্জিলিং, সিকিম, ডুয়ার্স ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যে যাতায়াতের প্রধান প্রবেশদ্বার হওয়ায় বাগডোগরা বিমানবন্দরের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। দেশি-বিদেশি পর্যটক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ যাত্রীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিমানবন্দরের সক্ষমতা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তাও দেখা দিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে নতুন টার্মিনাল নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। নাভেদ নিজাম জানান, আর মাত্র নয় মাসের মধ্যেই বাগডোগরা বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে। ২০২৪ সালে বর্তমান বিমানবন্দরের পাশে প্রায় ১০০ একর জমিতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি রুপি ব্যয়ে এই আধুনিক টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।
নতুন টার্মিনাল চালু হলে যাত্রী ধারণক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন সুবিধা যুক্ত হবে। এতে চেক-ইন, নিরাপত্তা তল্লাশি, ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনা এবং যাত্রীসেবার সামগ্রিক মান আরও উন্নত হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সম্পন্ন হলে বাগডোগরা বিমানবন্দর শুধু উত্তরবঙ্গ নয়, সমগ্র পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক বিমান পরিবহন হাবে পরিণত হবে।
