এক বছর পর ফিরছে বিমানের ঢাকা–নারিতা রুট
দীর্ঘ প্রায় এক বছর দুই মাস বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা–জাপান সরাসরি ফ্লাইট।
দীর্ঘ প্রায় এক বছর দুই মাস বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা–জাপান সরাসরি ফ্লাইট। আগামী ২৭ জুলাই থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং জাপানের নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা পুনরায় শুরু হবে বলে জানিয়েছে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে এই রুটে সপ্তাহে একটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। যাত্রী চাহিদা ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বিবেচনায় ভবিষ্যতে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। রুটটি পুনরায় চালুর ফলে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে যাতায়াত আরও সহজ ও দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে অপারেশনাল ও বাণিজ্যিক বিভিন্ন কারণে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ঢাকা–নারিতা সরাসরি ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। সে সময় হজ ফ্লাইট পরিচালনার অতিরিক্ত চাপ, উড়োজাহাজ সংকট এবং রুটটির বাণিজ্যিক কার্যকারিতা নিয়ে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেছিল বিমান কর্তৃপক্ষ। ফলে যাত্রীদের বিকল্প রুট ব্যবহার করে জাপানে যাতায়াত করতে হচ্ছিল, যা সময় ও ব্যয় উভয়ই বাড়িয়ে দেয়।
রুটটি পুনরায় চালুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে যাচ্ছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে আগামী ১৫ জুন বাংলাদেশ সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা আফরোজা খানম এবং প্রতিমন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত গণমাধ্যমের সামনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবেন।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকা–নারিতা সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করা হয়েছিল। তবে বিভিন্ন বাস্তব কারণে ২০২৫ সালে সেটি আবার বন্ধ হয়ে যায়। নতুন করে ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্তকে বিমান খাতের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিমান ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা এবং জনসম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জাপানে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিক, শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়ীদের জন্য সরাসরি ফ্লাইট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ঢাকা–নারিতা রুট পুনরায় চালু হওয়ায় দুই দেশের মানুষের যাতায়াত আরও সহজ হবে এবং অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আগামী সংবাদ সম্মেলনে ফ্লাইটের সময়সূচি, টিকিট বিক্রি, পরিচালনা পদ্ধতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
