এভিয়েশনে নতুন প্রবৃদ্ধির নেতৃত্ব দিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য

বৈশ্বিক বিমান চলাচল খাতে মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান বিমানবন্দরগুলো।

বৈশ্বিক বিমান চলাচল খাতে মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান বিমানবন্দরগুলো। সাম্প্রতিক যাত্রী পরিসংখ্যান বলছে, অঞ্চলটির বড় এভিয়েশন হাবগুলো শুধু পুনরুদ্ধারই করেনি, বরং নতুন প্রবৃদ্ধির যুগে প্রবেশ করেছে। বিশেষ করে দুবাই, দোহা এবং আবুধাবির মতো আন্তর্জাতিক ট্রানজিট কেন্দ্রগুলো আবারও বিশ্ব বিমান চলাচলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

২০২৪ এবং ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের বিমান সংস্থা ও বিমানবন্দরগুলো যাত্রী পরিবহন এবং আসন সক্ষমতা উভয় ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। আন্তর্জাতিক রুটে পরিচালিত মোট আসন সক্ষমতার প্রায় ১০ শতাংশ এখন মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক এয়ারলাইন্সগুলোর দখলে। একই সঙ্গে অঞ্চলটির গড় লোড ফ্যাক্টর বা আসন পূরণের হার ৮০ শতাংশেরও বেশি, যা বৈশ্বিক যাত্রী চাহিদার শক্তিশালী অবস্থানকে নির্দেশ করে।

এই সাফল্যের অন্যতম বড় উদাহরণ দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ২০২৪ সালে বিমানবন্দরটি প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ যাত্রী পরিবহন করে মহামারির আগের সব রেকর্ড ভেঙে দেয়। পরবর্তী বছরেও প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকে। ২০২৫ সালে ৯ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি যাত্রী দুবাই বিমানবন্দর ব্যবহার করেছেন বলে জানা গেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে বিশ্বের ব্যস্ততম বিমানবন্দর হিসেবে দুবাই তার অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে।

বিশ্বব্যাপী বিমান যাত্রীর সংখ্যা ২০২৪ সালে নতুন রেকর্ড গড়লেও মধ্যপ্রাচ্যের বিমানবন্দরগুলো অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী অঞ্চলের তুলনায় দ্রুত গতিতে এগিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপ, এশিয়া এবং আফ্রিকার মধ্যে সংযোগ স্থাপনে মধ্যপ্রাচ্যের ভৌগোলিক অবস্থান বড় সুবিধা হিসেবে কাজ করছে। দীর্ঘপাল্লার ট্রানজিট যাত্রীদের জন্য এসব বিমানবন্দর এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগকেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্যতম।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মহামারির পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তুলনামূলক দ্রুত সীমান্ত খুলে দেয় এবং স্থানীয় বিমান সংস্থাগুলো দ্রুত ফ্লাইট সূচি পুনর্গঠন করে। এর ফলে তারা আন্তর্জাতিক বাজারে উল্লেখযোগ্য অংশীদারিত্ব অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে লাভজনক দীর্ঘপাল্লার রুটগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের বিমানবন্দর ও এয়ারলাইন্সগুলো তাদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছে।

বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক টার্মিনাল নির্মাণ এবং যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধির ফলে আগামী বছরগুলোতেও মধ্যপ্রাচ্যের মেগা হাবগুলো বৈশ্বিক বিমান পরিবহনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা পালন করবে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.