পাইলট নিয়োগে অনিয়ম হয়নি, দাবি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স দাবি করেছে, তাদের এক পাইলটের নিয়োগ ও লাইসেন্সসংক্রান্ত সব প্রক্রিয়া বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএবি) বিধিমালা অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স দাবি করেছে, তাদের এক পাইলটের নিয়োগ ও লাইসেন্সসংক্রান্ত সব প্রক্রিয়া বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএবি) বিধিমালা অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে এবং এতে যাত্রীদের নিরাপত্তা কোনোভাবেই বিঘ্নিত হয়নি। পাইলটের লাইসেন্স ইস্যুতে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে চলমান আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই এ দাবি করেছে রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থাটি।

বিমানের ফ্লাইট অপারেশনস ডিরেক্টরেট প্রস্তুত করা একটি অভ্যন্তরীণ যাচাই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট পাইলটের নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, পদোন্নতি ও দায়িত্ব পালনের প্রতিটি ধাপ বিদ্যমান নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয় বিমানের আইন বিভাগ ব্যাখ্যা চাওয়ার পর।

এদিকে, কিছু বিমানের পাইলটের কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স (CPL) এবং এয়ারলাইন ট্রান্সপোর্ট পাইলট লাইসেন্স (ATPL) ইস্যুতে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার শুনানি শেষ করেছে হাইকোর্ট। বিচারপতি আহমেদ সোহেলফাতেমা আনোয়ার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেছেন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. তৌফিকুর রহমান জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করেন। তার অভিযোগ, কয়েকজন পাইলট প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ না করেই লাইসেন্স পেয়েছেন। এর আগে হাইকোর্ট জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ না করাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে কেন ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হবে না।

বিমানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইন বিভাগ প্রথমে বিষয়টি নিয়ে ফ্লাইট অপারেশনস ডিরেক্টরেটের মতামত চায়। তবে সংস্থার চিফ অব সেফটি সরাসরি ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পর্যবেক্ষণ জমা দেন। ফ্লাইট অপারেশনস ডিরেক্টরেটের মতে, বিষয়টি মূলত নিয়ন্ত্রক বিধি অনুসরণের, নিরাপত্তাজনিত নয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পাইলট ক্যাপ্টেন আব্দুর রহমান আকন্দ ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি ১,৭৭৮ ঘণ্টা উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা নিয়ে বিমানে ডাইরেক্ট-এন্ট্রি ফার্স্ট অফিসার হিসেবে যোগ দেন। বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ শেষে একই বছরের ৩০ মার্চ তিনি প্রথমবার বোয়িং ৭৩৭ উড়ান পরিচালনা করেন। পরে বোয়িং ৭৭৭ বহরে দায়িত্ব পালন করেন এবং প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ করে বোয়িং ৭৩৭-এর ক্যাপ্টেন হিসেবে পদোন্নতি পান।

তার নিয়োগের সময় দেওয়া নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এ বিষয়ে বিমানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৪ সালের একটি রিট মামলার মাধ্যমে বিষয়টির আইনগত নিষ্পত্তি আগেই হয়েছে।

প্রতিবেদনটির উপসংহারে বলা হয়েছে, বিমানের পক্ষ থেকে সিএএবির কোনো বিধি লঙ্ঘন করা হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট পাইলটের নিয়োগ বা লাইসেন্সের কারণে যাত্রী নিরাপত্তা কোনোভাবেই ঝুঁকির মুখে পড়েনি। ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি ফ্লাইট অপারেশনস পরিচালক এ কে এম আমিনুল ইসলাম এই প্রতিবেদনটিতে স্বাক্ষর করেন।

তবে আদালতে রিটকারীর আইনজীবী শাহ বখতিয়ার ইলিয়াস যুক্তি দেন, পাইলটদের সিপিএল লাইসেন্স যাচাই করার একমাত্র এখতিয়ার সিএএবির, কারণ পাইলটরা লাইসেন্স পাওয়ার পরই বিমানে যোগ দেন। ফলে বিমান নিজে এই লাইসেন্স যাচাই করতে পারে না। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (ICAO) নীতিমালা অনুযায়ী সিএএবিকেই স্বাধীনভাবে তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে। এখন এ বিষয়ে হাইকোর্টের রায়ের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.

EN