মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফের বৈঠকে বসতে চায় উত্তর কোরিয়া

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফের বৈঠকে বসতে চায় উত্তর কোরিয়া।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেছে উত্তর কোরিয়া। এ মাসের শেষের দিকে এ বৈঠকে বসতে আগ্রহী বলে মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো সোন-হুই জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররারষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেই আবারো আলোচনা শুরুর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করার পর উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এ আগ্রহ প্রকাশ করা হলো।

কিন্তু এ আগ্রহ প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উত্তর কোরিয়া দু’টি স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। মার্কিন আহ্বানের তোয়াক্কা না করে দেশটি দক্ষিণ পিয়নগান প্রদেশ থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায় বলে দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উত্তর কোরিয়া একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাচ্ছে। তার ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সর্বশেষ এ পরীক্ষা চালিয়েছে দেশটি।

রোববার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘উত্তর কোরিয়ার চলমান ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় আমরা হতাশ। তারা এগুলো বন্ধ করে যাতে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসে সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’

উত্তর কোরিয়া যা বলেছে

উত্তর কোরিয়ার উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সোন-হুই বলেন, সেপ্টেম্বরের শেষদিকে দুই দেশের সম্মতিতে নির্ধারিত সময় ও স্থানে তারা বৈঠকে বসতে আগ্রহী। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

রয়টার্স জানিয়েছে সোন-হুই বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করতে চাই, যুক্তরাষ্ট্র  সুচিন্তিত বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসবে, যেটি উভয়পক্ষের স্বার্থ সংরক্ষণ করবে এবং আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।

ক্ষেপনাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে যা জানা যাচ্ছে

দক্ষিণ কোরিয়ার সেনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়া মঙ্গলবার ভোরে সাগরের দিকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। এর পরপরই দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল জরুরি বৈঠকে বসে।

একজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম এএফপিকে জানিয়েছেন, সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপনাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর বিষয়টি নিয়ে তারা সতর্ক। তিনি বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে চলেছি, ওই অঞ্চলে আমাদের মিত্রদের সঙ্গে পরামর্শও করছি।’

প্রসঙ্গত, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট টোনাল্ড ট্রাম্প এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মধ্যে প্রথম বৈঠকে কোরিয়া উপদ্বীপকে পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণে ঐকমত্যে পৌছায় দুই দেশ। যদিও তারা আসলে কিভাবে কি করতে চাচ্ছেন, কিভাবেই বা এই লক্ষ্য অর্জন হবে তা সুনির্দিষ্ট করা হয়নি।

এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভিয়েতনামের হ্যানয়ে তাদের দ্বিতীয় বৈঠকও কোন ঐকমত্য ছাড়াই শেষ হয়। সর্বশেষ বৈঠকটি ভেঙ্গে যায় উত্তর কোরিয়ার ওপর মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে মতদ্বৈতার কারণে।

এরপর এ বছরের জুনে দুই কোরিয়ার মধ্যবর্তী বেসামরিক অঞ্চলেও ট্রাম্প এবং কিমের ঐতিহাসিক সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। সে সময় সংক্ষিপ্ত আলোচনায় দুজনই ওয়ার্কিং লেবেলে বৈঠক শুরুর ব্যাপারে রাজি হলেও এখন পর্যন্ত তা হয়নি।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.