মোবাইল অপারেটর রবির কার্যক্রম নিরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কর্তৃক নিয়োগকৃতি অডিট ফার্মের সহযোগী বিদেশি প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন আসছে। অডিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত মসিহ মুহিত হকের নতুন সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছে ভারতের পিকেএফ শ্রিধর এন্ড সানথানাম এলএলপি নামের একটি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট ফার্ম ।
টেলিযোগাযোগ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের বিষয়ে বিটিআরসির মাধ্যমে একটি প্রস্তাব এসেছে। বিষয়টি যাচাই বাছাই করে শিগগিরেই চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে বলে বলে মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধবতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
সূত্র জানায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর গ্রামীণফোন ও রবির অডিট শুরু করতে দুটি ফার্মের অনুমোদন দিয়ে বিটিআরসিতে চিঠি পাঠায় টেলিযোগাযোগ বিভাগ । চিঠিতে প্রচলিত আইন ও বিধি মেনে অপারেটরদের সিস্টেম অডিট করতে বলা হয়৷ এর আওতায় আর্থিক, কারিগরি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা সবই অন্তর্ভুক্ত থাকবে ।
সূত্র আরো জানায়, রবির অডিটের জন্য গত বছর মসিহ মুহিত হকের সঙ্গে সহযোগী হিসেবে বিদেশি চার্টার্ড অ্যাকাউটেন্ট ফার্ম টিআর চাধা এন্ড কো. কে নিয়োগ দেওয়া হয়। কোম্পানি দুটিকে চুক্তির জন্য আহ্বান জানানো হলে, মসিহ মুহিত জানা্য় তাদের বিদেশি সহযোগী প্রতিষ্ঠান অসহযোগিতা করছে। এরপর মসিহ মুহিত নতুন ফার্ম হিসেবে ভারতের পিকেএফ শ্রীধর অ্যান্ড সানথানাম এলএলপি এর নাম প্রস্তাব করে।
সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত বিধিমালা ২০০৮ এর বিধি ৫৪ (১০) অনুসারে যৌথ উদ্যোগের কোনো কার্যাদেশের চুক্তি সম্পাদনের আগে কোনো অংশীদার অযোগ্য হলে তা পরিবর্তনে শর্ত সাপেক্ষে অনুমতি দেওয়া যাবে। শর্দত হলো নতুন অংশীদারকে পূর্বের অংশীদার হতে বেশি যোগ্যতা সম্পন্ন হতে হবে।
এ বিষয়ে বিটিআরসি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এক পত্রে মন্ত্রণালয়কে জানায়, ‘টিআর চাধা এন্ড কো. ও পিকেএফ শ্রিধর দুই প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও কারিগরি যোগ্যতা সম্পন্ন জনবল এক হলেও টেলিযোগাযোগ খাতে কাজের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় পিকেএফ শ্রিধর অধিক যোগ্যতম সম্পন্ন ।
সূত্র জানিয়েছে, পিকেএফ শ্রীধর যোগ্যতা আরও যাচাইয়ের জন্য দরপত্রে বৈধতার মেয়াদ ১৫ মার্চ পর্যন্ত বাড়নো হচ্ছে। সূত্রটি আরও জানায়, আন্তর্জাতিক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট কোম্পানির সহায়তাই সব অপারেটরকে পর্যায়ক্রমে এই নিরীক্ষার আওতায় আনা হবে।
এদিকে গ্রামীণফোনের অসহযোগিতায় অডিটের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত তোহা জামান অ্যান্ড কোম্পানি নিয়োগ পাওয়ার তিন মাস পরও নিরীক্ষা শুরু করতে পারেনি ।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে প্রথমবারের মতো গ্রামীণফোন ও বাংলালিংকের নিরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করে বিটিআরসি। তবে এর কিছুদিন পরে বাংলালিংকের নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় অপারগতা প্রকাশ করে অডিট প্রতিষ্ঠান আহমেদ জাকের অ্যান্ড কোম্পানি। কিন্তু গ্রামীণফোনের নিরীক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করে ফজল অ্যান্ড কোম্পানি। একই বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ নিরীক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করে। এ রিপোর্টের ভিত্তিতে ২০১১ সালের ৩ অক্টোবর গ্রামীণফোনের কাছে ৩ হাজার ৩৪ কোটি টাকা চেয়ে চিঠি দেয় বিটআরসি। তখন গ্রামীণফোন দেশীয় ওই ফার্মটির অডিট মান নিয়ে প্রশ্ন তোলে। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আদালতে গড়ায়। গ্রামীণফোনকে দেয়া ওই চিঠির ওপর ‘স্থিতাবস্থা’ দেন হাইকোর্ট। এছাড়া আরেক অডিট কোম্পানির মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বরে হাইকোর্ট বিটিআরসির অডিট নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল বলে রায় দেন।
