বিমানবন্দরে রাতভর কুয়েত ফেরত ২৯৫ জনের বিক্ষোভ

কুয়েত সরকার করোনাভাইরাসের প্রেক্ষাপটে ফেব্রুয়ারিতে অবৈধ অভিবাসীদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে। ওই ক্ষমার সুযোগ গ্রহণ করেন ৪ হাজার ৬০৭ বাংলাদেশি। তাদের রাখা হয় আবদালিয়া, সেবদি, মাঙ্গাফ ও কসরে অবস্থিত বন্দি শিবিরে। খাদ্য সংকট, দেশে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তাসহ নানা অব্যবস্থাপনার মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন তারা ক্যাম্পগুলোয়। বিনা চিকিৎসায় কয়েক সহকর্মীর মৃত্যুও দেখতে হয়। পরে আটকেপড়া এই প্রবাসীদের বিশেষ ফ্লাইটে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেয় সরকার।

শুধু তা-ই নয়, গত ১২ মে থেকে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়ায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর খালি হাতে ফেরা এই প্রবাসীদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে বিশেষ সহায়তাও দিয়ে আসছিল প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়- যেন ওই টাকা দিয়ে তারা বাড়ি পর্যন্ত যেতে পারেন।

কিন্তু সবশেষ গত সোমবার রাত ১টার দিকে কুয়েত এয়ারওয়েজের বিশেষ ফ্লাইটে ফেরত আসা ২৯৫ জনের কাউকেই দেওয়া হয়নি এই বিশেষ সহায়তা। এতে রাত দেড়টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত বিমানবন্দরের ভেতরে বিক্ষোভ করেন ফেরত আসা যাত্রীরা। তাদের বিমানবন্দরের মেঝেতে বসে ও দাঁড়িয়ে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। তারা বলছিলেন, ‘আমাদের দাবি মানতে হবে, আমাদের টাকা দিতে হবে।’ তবে এতে কোনো কাজ হয়নি, খালি হাতেই নিঃস্ব অবস্থায় বাড়ি ফিরতে হয়েছে তাদের। গতকাল মঙ্গলবার এক প্রবাসী বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের এক কর্মকর্তা আমাদের বলেন- সরকার ঘোষিত বিশেষ সহায়তার টাকা দেওয়া বন্ধ। তিনি আর কিছু না বলেই চলে যান।

অথচ দূতাবাস থেকে আমাদের বলা হয়েছে, বিমানবন্দরে নামার পর পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এর আগে অন্য দেশ থেকে যারা ফেরত এসেছে, তারাও তা পেয়েছেন। আমরা কেন পাব না? ফেরত আসা আরেক প্রবাসীকর্মী বলেন, আমাদের কারও কাছে কোনো টাকা নেই। এয়ারপোর্টের কর্মকর্তারাও নানা বাহানায় বিশেষ সহায়তার টাকাটা দিতে চাইছে না। তা হলে আমরা বাড়ি যাব কীভাবে? সরকার ঘোষিত টাকা পাওয়ার দাবিতে আমরা ন্যায্য কারণেই বিক্ষোভ করেছি।

জানা গেছে, কুয়েতের চার বন্দি শিবিরে থাকা ৪ হাজার ৬০০ জনের বাইরে আরও ১৭৩ জন দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন। তারা বিভিন্ন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারা- ভোগ করেছেন। সাধারণ ক্ষমার আওতায় তারা দেশে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন। তেলসমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে এ মুহূর্তে বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে তিন লাখ কর্মী রয়েছেন। তাদের মধ্যে কুয়েত সরকার প্রায় ৩৮ হাজার বাংলাদেশিকে অবৈধ বা অনিয়মিত হিসেবে ঘোষণা করেছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন তাওহীদুল আহসান বলেন, সোমবার রাত ১টার দিকে সরকারি বিশেষ ফ্লাইটে বিমানবন্দরে এসে পোঁছান কুয়েতের বন্দি শিবিরে আটকেপড়া ২৯৫ প্রবাসী বাংলাদেশি। তারা বিশেষ সহায়তার টাকা না পেয়ে ভোর ৪টা পর্যন্ত বিক্ষোভসহ ব্যাপক বিশৃঙ্খলা করেন বিমানবন্দরে। যেহেতু তারা বন্দি শিবিরে আটক ছিলেন, তাই মানবিক বিবেচনায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা না নিয়ে বুঝিয়ে-শুনিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

বিমানবন্দরের প্রবাসী ক্যলাণ ডেস্কের এডি ফখরুল ইসলাম রনি বলেন, লকডাউন পরিস্থিতিতে এতদিন বন্দি শিবির থেকে ফেরা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সরকারি বিশেষ সহায়তার ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হতো। ৩১ মে লকডাউন উঠে যাওয়ার পর প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে না। প্রক্রিয়াটি তুলে দেওয়ার ফলে সোমবার গভীর রাতে কুয়েত ফেরত যাত্রীদের সহায়তার টাকাটা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার নেই।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.