দেশে ফেরার প্রতিক্ষায় দুবাইতে হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশী, আটকে আছে লাশও
দেশে ফেরার প্রতিক্ষায় প্রহর গুনছেন দুবাইতে থাকা হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশী। তাদের অনেকে টুরিস্ট ভিসায় বেড়াতে গিয়ে সেখানে আটকা পড়েছেন। এখন ফ্লাইট না থাকায় দেশে ফিরতে পারছেন না।
এছাড়া আরব আমিরাত সরকারের সাধারণ ক্ষমার আ্ওতায় বিভিন্ন কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়া শত শত বাংগালীও দেশে ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছেন। কিন্তু ফ্লাইট না থাকায় তারা দেশে ফিরতে পারছেন না। এই অবস্থায় অনেকের টাকা শেষ হয়ে গেছে। যার কারণে তারা হোটেলে মোটেল ছেড়ে দিয়ে বিভিন্ন মসজিদ, আশ্রয় কেন্দ্র ও বিমানবন্দরে মানবেতর জাবীন কাটাচ্ছেন।
ফ্লাইট না থাকায় আরব আমিরাতের আবুধাবীতে বাংলাদেশের কয়েকটি লাশও ঢাকায় ফিরতে পারছে না। জাানাগেছে আবুধাবীর আল খতম, আলাইনে গত ১১ জুন সড়ক দুরঘটনায় চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ থানার এক যুবক মারা গেছেন। তর নাম আবছার তাজামেল হোসেন। তার লাশ আনার জন্য ওয়েজ আরনার কল্যান বোড অনেক চেষ্টা তদবির করেও ফ্লাইটের অভাবে আনতে পারছেন না।
অনেকে আত্মায়-স্বজনের বাসায় থেকেও দেশে ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছেন। দুবাইতে থাকা এরকম অনেকে টেলিফোনে এভিয়েশন নিউজকে বলেছেন তাদের কস্টের কথা। তারা বলেছেন, একটি ফ্লাইটের নাম ঘোষনা করা হলেই ত’ক্ষনাত টিকিট শেষ হয়ে যাচ্ছে। টিকিটের দাম হাকানো হচ্ছে আগের তুলনায় ৬/৭গুন বেশি। এভাবে একটি টিকিট সিন্ডিকেট আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে যাচ্ছেন। এই সিন্ডিকেটের সাথে বাংলাদেশী এম্বাসির কতিপয়-স্টাফ জড়িত। অতিরিক্ত টাকা না দিলে তারা কাউকে টিকিট দিচ্ছে না।
এদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইটে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে আটকে পড়া ৩৯১ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। তাদের বহনকারী ফ্লাইটটি ভোর ৪টা ৩৬ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে বলে জানান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উপ মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার।
এদিকে গত ১ জুন থেকে সীমিত পরিসরে চালু হয়েছে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট। বন্ধ থাকা আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হচ্ছে আগামী ১৬ জুন থেকে। তবে প্রথম পর্যায়ে শুধু লন্ডন ও কাতার রুটে সীমিত পরিসরে ফ্লাইট চালু হবে। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে অন্যান্য দেশগুলো নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে সেসব দেশেও ফ্লাইট চালু হবে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, দুবাই থেকে দেশে ফেরার পর ৩৯১ জনের সবাইকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে। এর আগে গতকাল ইতালির রোম শহরে আটকে পড়া ২৮৭ বাংলাদেশি দেশে ফেরেন। তারও আগে ১১ জুন দোহা থেকে বাংলাদেশে আসেন ৪০৯ বাংলাদেশি। ৬ জুন মালদ্বীপ থেকে আসেন ২৬৫ বাংলাদেশি। ৩ জুন কুয়ালালামপুর থেকে ফেরেন ১৪০ বাংলাদেশি, ৩১ মে দুবাই থেকে আসেন ২৬২ বাংলাদেশি।