বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-রোম বিশেষ ফ্লাইটের টিকিট নিয়ে হাহাকার চলছে। ইতালী প্রবাসী এবং ইতালী রেসিডেন্ট কার্ডধারী যাত্রীরা বিমানের টিকিটের জন্য হন্য হয়ে বিমান বিক্রয় কেন্দ্র গুলোতে ঘুরছেন। কিন্তু টিকিট নেই কোথাও। বিমানের ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন করেও মিলছে না টিকিট।
সংশ্লিস্টরা বলেছেন, ইচ্চা করলে বিমান নিজেরাই দূতাবাসের সংগে যোগাযোগ করে আরো বেশি সংখ্যক ফ্লাইটের পারমিশন নিতে পারতো। বিমানের মার্কেটিং বিভাগের কর্মকর্তাদের কাজ এটি। কিন্তু তারা এই মার্কেটিং করছেন না। রুম থেকে বের হচ্ছেন না। কারো সংগে যোগাযোগও করছেন না।
ভুক্তভোগীরা বলেছেন, যেসব প্রবাসী ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে ইতালি থেকে ঢাকা গিয়েছিলেন, তারাই এখন ফিরতে চান। কারণ ইতালিতে প্রায় সব অফিস, দোকান, কারখানা খুলছে এবং জীবনযাত্রাও স্বাভাবিক হচ্ছে। অনেককে তাদের কর্মস্থল থেকে যোগ দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ আছে, ইতালির ফ্লোরেন্সে থাকা মান্নান সরদার নামের এক ব্যক্তিকে পাঁচ হাজার টাকা না দিলে বিমানের ওয়েবসাইটে টিকিটের জন্য নিবন্ধন করা যাচ্ছে না। তাকে টাকা না দিলে টিকিটও পাওয়া যায় না।
অভিযোগ মান্নান সরদারকে অতিরিক্ত টাকা না দিলে টিকিট মিলছে না। টিকিট পেতে বিমানের নির্ধারিত ভাড়া ৮৫ হাজার টাকার সঙ্গে অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা মান্নান সরদারের দেওয়া বাংলাদেশের একটি নম্বরের বিকাশ অ্যাকাউন্টে পাঠাতে হচ্ছে। একজন ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, নিবন্ধনের পর তিনি প্রথমে টিকিট কিনতে গিয়ে বিমানের ওয়েবসাইটে টিকিট পাননি। পরে মান্নান সরদারের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে টিকিট কিনতে গেলে তার কাছে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা চাওয়া হয়। পরে ৫ হাজার টাকা একটি বিকাশ অ্যাকাউন্টে, ২০ হাজার একটি অ্যাকাউন্টে এবং বিমানের জন্য ৮৫ হাজার টাকা পৃথকভাবে দেওয়ার পর তিনি টিকিট হাতে পান।
জানাগেছে মান্নান সরদার ফ্লোরেন্স বিএনপির উপদেষ্টা। তিনি ইতালিতে বিএনপি ঘরানার মানুষের মধ্যে প্রভাবশালী হিসেবেই পরিচিত। তিনি কয়েকদিন আগে প্রবাসীদের কাছে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠান। সেই ভয়েস মেসেজে মান্নান সরদারকে বলতে শোনা যায়- তিনি এই বিমানের টিকিট সংক্রান্ত ব্যবসায় কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। অতএব তাকে তার লাভ বুঝে নিয়েই বিমানের টিকিট কাটার জন্য সহায়তা করতে হবে। তিনি তাকে বার বার ফোন না করে বাংলাদেশের একটি বিকাশ নম্বরে ফোন করে টিকিট কাটতে বলেন। ১৭ জুনের টিকিট ঘিরেও মান্নান সরদারের এই চক্র একইভাবে অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা নিয়ে টিকিট কাটতে বাধ্য করছে বলে জানান এক ভুক্তভোগী।
