পরীক্ষার মেশিনের স্বল্পতা, রিএজেন্ট সংকট ও সীমিত অ্যাকসেস বিশ্বজুড়ে কভিড ১৯-এর অপর্যাপ্ত পরীক্ষার জন্য দায়ী। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নতুন ধরনের পরীক্ষা দ্রুত, সস্তা ও আরো বেশি ব্যবহারবান্ধব বৈশিষ্ট্যগুলো পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধির তাগাদা দিচ্ছে। এর মধ্যে লালা পরীক্ষাগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও খেলোয়াড় দলের স্ক্রিনিং সরঞ্জাম হিসেবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
এছাড়া অ্যান্টিজেন টেস্টিং হলো আরেকটি পরীক্ষা পদ্ধতি, যা রোগী নিজেই বাড়িতে বসে পরীক্ষা এবং এক ঘণ্টার মধ্যে ফলাফল পাওয়ার সুযোগ করে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রে বেশ কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সংস্থা অ্যান্টিজেন কিট তৈরি করে নিয়ন্ত্রকের অনুমোদন পেতে এবং এগুলো বিপুল পরিমাণে বাজারে আনতে কাজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেল ডিভাইস প্রস্তুতকারক সংস্থা ওরাশিওরের প্রেসিডেন্ট ও সিইও স্টিফেন ট্যাং বলেছেন, এটা যুদ্ধকালীন প্রচেষ্টার মতো, এখানে অনেকগুলো সম্মুখভাগ রয়েছে এবং আমরা সব উপায়ে এ রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার চেষ্টা করছি।
এ ধরনের পরীক্ষাগুলোর ফলাফল এক ঘণ্টারও কম সময়ে পাওয়া যেতে পারে এবং লোকেরা নিজেরাই পরীক্ষা করতে পারে এমন বিষয়টি নিশ্চিত করে কেউ কেউ বলেছেন, অ্যান্টিজেন পরীক্ষা মহামারী মোকাবেলায় গেম চেঞ্জার হতে পারে। ওরাশিওর ফার্মটি বছরে কয়েক মিলিয়ন অ্যান্টিজেন টেস্ট উৎপাদনের পরিকল্পনা করেছে।
র্যাপিড টেস্ট আইনজীবী এবং হার্ভার্ডের মহামারী বিশেষজ্ঞ মাইকেল মিনা টুইট করেছেন, এ সাধারণ সরঞ্জামগুলো সমাজে স্বাভাবিকতা ও সুরক্ষার অনুভূতি ফিরিয়ে আনতে পারে।
অ্যান্টিজেন পরীক্ষা হলো অ্যান্টিবডি পরীক্ষার বিপরীত। অ্যান্টিবডি পরীক্ষায় পরীক্ষা কিটের ভেতরে প্লেটজুড়ে ভাইরাল প্রোটিন অ্যান্টিজেনগুলো ঢোকানো থাকে। যদি কোনো ব্যক্তির নমুনায় কভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি থাকে তবে সেই অ্যান্টিবডিগুলো অ্যান্টিজেনের সঙ্গে আবদ্ধ হবে এবং পরীক্ষা কিটের রঙ পরিবর্তন করে পজিটিভ ফলাফলকে নির্দেশ করবে। অন্যদিকে অ্যান্টিজেন পরীক্ষা কিটে অ্যান্টিবডি ঢোকানো থাকে। যখন একটি নমুনায় অর্থাৎ নাকের সোয়াবে কভিড-১৯-এর অ্যান্টিজেন থাকে, তখন কিটের অ্যান্টিবডিগুলো ভাইরাল অ্যান্টিজেনের সঙ্গে আবদ্ধ হয়ে পজিটিভ ফলাফল নির্দেশ করে।
সায়েন্টিস্ট
